রাজবাড়ীর গোয়ালন্দে আলোচিত দরবেশ নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগলের দরবার শরীফে হামলা, ভাঙচুর এবং কবর থেকে লাশ উত্তোলন করে পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা ও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পুলিশের ওপর হামলাসহ ভাঙচুরের অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
গোয়ালন্দ ঘাট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সেলিম হোসেন বাদি হয়ে শুক্রবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার পর মামলাটি দায়ের করেন। বিষয়টি শনিবার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে নিশ্চিত করেছেন রাজবাড়ীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শরীফ আল রাজীব।
নুরুল হক ওরফে নুরাল পাগল গত ২৩ আগস্ট মারা যান। পরে পরিবারের সিদ্ধান্তে তার মরদেহ নিজ বাড়ির সামনে একটি প্রায় ১২ ফুট উঁচু কাঠামোর মধ্যে বিশেষভাবে কবরস্থ করা হয়। কবরটিতে কাবা শরীফের আদলে রঙ করে এবং ‘ইমাম মাহদী (আ.) দরবার শরীফ’ লেখা ব্যানার ঝুলিয়ে দেওয়া হয়।
এই ঘটনায় স্থানীয় ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। গোয়ালন্দ উপজেলা ইমাম পরিষদ ও তৌহিদী জনতা ২৬ আগস্ট বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে। সমাধানের লক্ষ্যে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে কয়েক দফা বৈঠক হয়, যেখানে কবরের উচ্চতা কমানো, ব্যানার অপসারণ এবং রঙ পরিবর্তনের দাবি জানানো হয়।
নুরাল পাগলের পরিবার দুটি দাবি মানলেও কবরের উচ্চতা কমানো নিয়ে সময় নেয়। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত সময় চেয়ে নেয় তারা।
শুক্রবার জুমার নামাজের পর আনসার ক্লাব চত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশ করে তৌহিদী জনতা। পরে তারা নুরাল পাগলের দরবারে হামলা চালায়। এ সময় দরবারে আগুন লাগানো হয় এবং পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। সংঘর্ষে মো. রাসেল (২৮) নামে একজন নিহত হন এবং কমপক্ষে ৫০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে সাংবাদিক, নারী ও শিশুও রয়েছেন।
নিহত রাসেল গোয়ালন্দ উপজেলার দেবগ্রাম ইউনিয়নের বাসিন্দা। তার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাচাতো ভাই ও জেলা ছাত্রদল নেতা শাহারিয়ার আদনান নুর ইসলাম।
পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে সেনাবাহিনী, র্যাব ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়। তবে বিকাল ৪টার দিকে উত্তেজিত জনতার চাপে প্রশাসন সরে যেতে বাধ্য হয়।
বিকালেই উত্তেজিত জনতা দরবার শরীফে ঢুকে বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট চালায়। তারা নুরাল পাগলের কবর ভেঙে মরদেহ উত্তোলন করে মিছিল করতে করতে পদ্মা মোড়ে নিয়ে আসে। সড়কের ওপর পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে লাশ পুড়িয়ে ফেলা হয়।
পরে বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে সেনাবাহিনী, র্যাব, ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এখনও এলাকায় অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন রয়েছে। নুরাল পাগলের দরবারে সাধারণের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গোয়ালন্দজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে, তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।








