ইরানের প্রধান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র নাতানজে আবারও হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। গত বছরের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং চলমান যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহেও এই পারমাণবিক স্থাপনা হামলার শিকার হয়। তবে এসব হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে রাশিয়া।
শনিবারের (২১ মার্চ) এই হামলা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) এবং অন্যান্য পারমাণবিক নিরাপত্তা বিধিসহ আন্তর্জাতিক আইন ও প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করে বলেও উল্লেখ করেছে ইরান।
রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বলেছেন, ‘এটি আন্তর্জাতিক আইনের স্পষ্ট লঙ্ঘন।’ ইরানের পারমানবিক কেন্দ্রগুলোতে বহু রাশিয়ান কাজ করেন বলে জানা গেছে।
ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থা বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের ‘অপরাধমূলক হামলার’ অংশ হিসেবে নাতানজে অবস্থিত শহিদ আহমাদি রোশান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রে হামলা চালানো হয়েছে।
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির অবসান ঘটানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে যুদ্ধ শুরু করলেও এখনও সেক্ষেত্রে মার্কিনিদের সাফল্য নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। কারণ একের পর এক হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলোর কিছু ক্ষতিসাধন হলেও প্রায় ৪৫০ কেজি ৬০ শতাংশ সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের খোঁজ পায়নি যুক্তরাষ্ট্র।
এই ইউরেনিয়াম জব্দ করতে ইরানে বিশেষ বাহিনী পাঠানোর পরিকল্পনাও করেছিল ট্রাম্প প্রশাসন। কিন্তু এখনও সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুতের খোঁজ না পাওয়ায় সে মিশন থমকে আছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে, তিন সপ্তাহ ধরে চলা এই যুদ্ধ প্রশমিত হওয়ার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। ইসরাইল জানিয়েছে, শনিবার ভোরেও ইরান তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ অব্যাহত রেখেছে। অন্যদিকে সৌদি আরব বলেছে, তারা পূর্বাঞ্চলের জ্বালানি স্থাপনা সমৃদ্ধ এলাকায় মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ২০টি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে একযোগে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল। এরপর থেকে চলমান যুদ্ধে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন ঘাঁটি ও ইসরাইলের স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে এর জবাব দিচ্ছে। সবশেষ ডিয়েগো গার্সিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র এবং যুক্তরাজ্যের যৌথ সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করেও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান।








