জাতীয় ক্রীড়া পুরস্কারপ্রাপ্ত অ্যাথলেট, বিকেএসপির সাবেক প্রশিক্ষক ও সংগঠক শামীমা সাত্তার মিমু শুক্রবার রাত ১১টায় ঢাকায় নিজ বাসভবনে মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তাকে দিনাজপুরে পিতার কবরের পাশে শনিবার দাফন করা হবে।
তার মৃত্যুর খবর এবং দাফনের তথ্য জানিয়েছেন একমাত্র পুত্র শাহরিয়ার শরীফ। নিজ জেলা দিনাজপুরে দাফনের জন্য মরহুমার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মৃত্যুর সময় তার বয়স হয়েছিল ৬৬ বছর।
তারকা অ্যাথলেট শামীমা সাত্তার মিমু স্প্রিন্ট, হার্ডলস, হাইজাম্প, লংজাম্প, সবখানেই সক্রিয় ছিলেন। বেশি জনপ্রিয় ছিলেন হাইজাম্প ইভেন্টে। জাতীয় পর্যায়ের এ ইভেন্টে টানা ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অনন্য এক রেকর্ড ছিল তার। ‘৯২ সালে দীর্ঘ খেলোয়াড়ি জীবনের সমাপ্তি ঘটিয়ে অ্যাথলেটিকস থেকে বিদায় নেন। পরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ কর্পোরেশনের (বিটিএমসি) অ্যাসিস্ট্যান্ট ম্যানেজার হিসেবে ‘৯৩ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৯৪ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের (এনএসসি) কোচ ছিলেন তিনি। ২০০২ সালে বিকেএসপির উপপরিচালক হিসেবে যোগ দেন। ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর বিকেএসপি থেকে অবসরে যান।
১৯৮০ ও ‘৯০-এর দশকে ক্রীড়াঙ্গনে নারী অ্যাথলেট হিসেবে মিমু ছিলেন পরিচিত নাম। স্বাধীনতার পর ১৯৭৩ সালে ট্র্যাক এন্ড ফিল্ডে জাতীয় পর্যায়ের লড়াইয়ে আগমন ঘটেছিল তার। একই বছর দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত জেলা ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে ১০০ মিটার, ২০০ মিটার, লংজাম্প এবং ট্রিপল জ্যাম্পে প্রথম হন। পরে দিনাজপুর জেলা একাদশের পক্ষে জাতীয় অ্যাথলেটিকসে অংশগ্রহণের জন্য তাকে নির্বাচিত করা হয়। ১৯৭৩ সালে কেবল ১৩ বছর বয়সে জন্মস্থান দিনাজপুর জেলা একাদশের পক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিত প্রথম জাতীয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতায় ক্ষুদে অ্যাথলেট হিসেবে অনশগ্রহণ করেছিলেন মিমু।
খেলা থেকে অবসরের পর বিটিএমসির ম্যানেজার এবং অ্যাথলেট তৈরির অদম্য বাসনায় কোচ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। কয়েকবছর পর যোগ দেন এনএসসিতে। এনএসসির অ্যাথলেট কোচ হিসেবে দারুণ দক্ষতা দেখান। তার আগে ভারতের পাতিয়ালা থেকে কোচিংয়ে ডিপ্লোমা সমাপ্ত করেন। উচ্চতর প্রশিক্ষণ নেন জার্মান থেকে। তার দক্ষ কোচিংয়ে ‘৯৬ সালে পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক নারী ইসলামিক গেমসে সেসময়কার যুঁথি, ফিরোজা, নিলুফাররা কৃতিত্বপূর্ণ ফলাফল আনেন। টানা ৮ বছরের কোচিং জীবনের অবসান ঘটিয়ে ২০০২ সালে মিমু দিনাজপুর বিকেএসপিতে উপ-পরিচালক হিসেবে যোগ দেন।
ম্যানেজার এবং কোচ হিসেবে তার সাফল্য অনেক। ২০১৬ সালে ভারতের গৌহাটি-শিলংয়ে ১২তম এসএ গেমসে তিনি বাংলাদেশ দলের নারী টিম ম্যানেজার ছিলেন। কঠোর পরিশ্রম করে তিনি নারী অ্যাথলেটদের উজ্জীবিত ও উৎসাহিত করেছিলেন দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতার আলোকে। সাহস ও পরামর্শ দিয়েছিলেন সবসময়। এসএস গেমস থেকে শীলা, মাবিয়ারা সেবার দেশের জন্যে যে দারুণ সাফল্য বয়ে এনেছিলেন, সেই সাফল্যের নেপথ্যের মিমু ছিলেন অন্যতম একজন।








