এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা উল্লেখ করে ভারত থেকে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ ভেন্যু সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় নেয়ার জন্য আইসিসিকে অনুরোধ করেছিল বিসিবি। তবে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে, বিশ্বকাপে খেলতে হলে ভারতেই খেলতে হবে। বৃহস্পতিবার ভারতে বিশ্বকাপ খেলতে না যাওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমরা আইসিসির সুবিচার পাইনি, ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের সরকারের।’
বৃহস্পতিবার বিশ্বকাপ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে রাজধানীর একটি পাঁচতারকা হোটেলে বিসিবি, বিশ্বকাপ স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটার এবং জাতীয় দলের তিন ফরম্যাটের অধিনায়কদের সাথে বৈঠক করেন আসিফ নজরুল। সমন্বিতভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বৈঠক শেষে সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি জানান আসিফ নজরুল। জানান, ক্রিকেটার ও বোর্ডের নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বলেছেন, ‘আমি একটা কথা স্পষ্ট করে বলি। আমাদের খেলোয়াড়দের সাথে বোর্ডের সবসময় যোগাযোগ ছিল। নিরাপত্তা ঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ভারতে বিশ্বকাপ না খেলা, এটা আমাদের সরকারের সিদ্ধান্ত। কোনো একটা দেশের মানুষ অন্য একটা দেশে গেলে নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে কিনা, সেটা সরকার বিবেচনা করে দেখে। এটা অন্য কারো বিবেচনার সুযোগ নাই।’
আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘আমরা সবাই চেয়েছি, যেন টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারি। কারণ আমাদের ক্রিকেটাররা এটা কষ্ট করে অর্জন করেছে। কিন্তু, আমাদের যে নিরাপত্তা ঝুঁকি ভারতে খেলার ক্ষেত্রে, সেই নিরাপত্তা ঝুঁকি পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন ঘটে নাই। আমাদের যেই নিরাপত্তা ঝুঁকির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, এটা কোনো বায়বীয় বিশ্লেষণ বা ধারণা থেকে হয় নাই। এটা একটা সত্যিকারের ঘটনার থেকে হয়েছে। যেখানে আমাদের একজন সেরা প্লেয়ারকে, উগ্রবাদের কাছে মাথা নত করে, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বের করে দিয়েছে।’
ভারত নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করতে কোনো চেষ্টা করেনি জানিয়ে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আইসিসি আমাদেরকে যতই বলুক নিরাপত্তা আশঙ্কা নেই, আইসিসি নামে তো আলাদা কোনো দেশ নাই। যেই দেশে আমার একটা খেলোয়াড় নিরাপত্তা পায় নাই এবং যেই দেশে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড সরকারের একটা অংশ। তারাই আমার খেলোয়াড়কে উগ্রবাদের চাপে নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ বা অনীহা প্রকাশ করেছে, সেই দেশেই খেলা হচ্ছে। সেই দেশের পুলিশ, সেই দেশের সিকিউরিটি এজেন্সিরই দায়িত্ব হবে ক্রিকেটারদেরকে নিরাপত্তা দেওয়া।’
‘ওই ঘটনার পরে কী এমন পরিবর্তন হয়েছে ভারতের, যে আমরা ভাবতে পারবো যে ভারতে আবার কোনো উগ্রবাদ দেখা যাবে না। ভারত আমাদের মোস্তাফিজকে নিরাপত্তা দিতে পারে নাই, তারা কি আমাদের ক্রিকেটারদের, আমাদের সাংবাদিকদের, আমাদের দর্শকদের সবাইকে নিরাপত্তা দিতে পারবে? কিসের ভিত্তিতে আমরা আশ্বস্ত হবো?’
‘আমাদেরকে এই বিষয়ে কনভিন্স করার জন্য আইসিসি কোনো চেষ্টা করে নাই। আইসিসি আসল যে ঘটনা, সেটাকে বাদ দিয়ে তার নিরাপত্তা নিয়ম নিয়ে আলোচনা করেছে। যেখান থেকে শুরু, সেই ঘটনা নিয়ে আইসিসি কোনো ব্যবস্থা নেয় নাই ঠিকমতো। এমনকি ভারত সরকারের পক্ষ থেকে যে আমাদের আশ্বস্ত করানোর চেষ্টা করা হয় নাই যে- মোস্তাফিজের ক্ষেত্রে যা ঘটেছে এটা একটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা আমরা এটার জন্য দুঃখিত, আমরা এই এই ব্যবস্থা নিচ্ছি তোমাদের দর্শক, তোমাদের সাংবাদিক, তোমাদের খেলোয়াড়দের জন্য। কিন্তু তারা কোনোরকম যোগাযোগের চেষ্টা করে নাই। কোনোরকম আশ্বস্ত করার চেষ্টা করে নাই।’-যোগ করেন যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা।
আইসিসি সুবিচার করেনি মন্তব্য করে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমাদের সিদ্ধান্ত পরিবর্তন হওয়ার কোনোরকম সুযোগ নাই। আমরা আইসিসির থেকে সুবিচার পাই নাই।এখনও আশা করবো আইসিসি সুবিচার করবে। আমাদের যে বিশ্বকাপ খেলার যে অধিকার, যেটা শ্রীলঙ্কাতে আমাদের খেলার সুযোগ রয়েছে—এরকম বহু নজির পৃথিবীতে আছে যে অন্য একটা ভেন্যুতে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে খেলা হচ্ছে। আমাদের এখানে আসলেই নিরাপত্তা ঝুঁকি আছে। আমরা এখনও আশা ছাড়ি নাই। আমরা আশা করবো আইসিসি আমাদের নিরাপত্তা ঝুঁকির বিষয়টা সুবিবেচনার সাথে নিয়ে আমাদেরকে শ্রীলঙ্কায় খেলার সুযোগ করে দিবে। আমরা সেই আশাবাদ নিয়ে এখনও অপেক্ষা করছি।’
এর আগে আইসিসি বুধবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিসিবিকে জানিয়ে দিয়েছে ভারতেই খেলতে হবে বিশ্বকাপ, নয়ত বিকল্প দল নেয়া হবে। বিসিবিকে সিদ্ধান্ত জানাতে ২৪ ঘণ্টার সময়ও বেঁধে দিয়েছে বিশ্বক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। যে সময় শেষ হচ্ছে আজই।
টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ সামনে রেখে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড ভারত থেকে ম্যাচ সরিয়ে শ্রীলঙ্কায় আয়োজনের আবেদন জানিয়েছিল আইসিসির কাছে। আবেদন প্রত্যাখ্যান করেছে সংস্থাটি। সদস্য দেশগুলোর বোর্ডের সাথে সভা ও ভোটাভুটির পর নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ভারতে খেলতে না এলে বাংলাদেশের পরিবর্তে অন্যদলকে বিশ্বকাপে অন্তর্ভুক্ত করা হবে, বুধবার জানিয়েছে।
আইসিসির বোর্ড সভায় একদিন আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়। বাংলাদেশ ভারতের মাটিতে না খেলার পক্ষে নিজেদের বাইরে কেবল একটি ভোট পায়। বাকি সদস্য দেশগুলোর ভোট বাংলাদেশের বিপক্ষে যাওয়ায় আইসিসির সিদ্ধান্ত অপরিবর্তিত থাকে। সঙ্গে আইসিসি জানিয়েছে, ভারতে খেলতে গিয়ে বাংলাদেশের জন্য কোন নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই।








