অ্যাশেজের প্রথম তিন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার কাছে টানা হেরে আগেই অ্যাশেজ হেরেছে ইংল্যান্ড। পরে শঙ্কা ছিল ইংলিশরা হোয়াইটওয়াশ হয় কি না। তবে সেই শঙ্কা উড়িয়ে দিয়েছে বেন স্টোকসের দল। মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে দুই দিনেরও কম সময়ে ম্যাচ জিতে ১৫ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট জিতলো ইংল্যান্ড। দূর হয়েছে ইংলিশদের হোয়াইটওয়াশ হওয়ার শঙ্কা।
অ্যাশেজ খোয়ানোর পর মেলবোর্নে দুদিনে জয় তুলল ইংল্যান্ড। এর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ ১৮ ম্যাচ পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম জয় পেয়েছে স্টোকসের দল। ১৬ ম্যাচে হার এবং দুই ড্রয়ের পর এ জয় এসেছে ইংল্যান্ডের। এমসিজিতে সবশেষ ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জয় দেখেছিল ইংল্যান্ড।
অ্যাশেজে দুদিনেরও কম সময়ে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ডের মোট উইকেট পড়েছে ৩৬টি। প্রথম দিন ২০ উইকেট পতনের পর দ্বিতীয় দিনও ১৬ উইকেটের পতন হয়েছে দুদলের। অবশ্য দুদিনে ১৮০ ওভার খেলা হয়নি। দুইদিনে সবমিলে খেলা হয়েছে মাত্র ১৪২ ওভার। সবমিলে দুই দিনের চার ইনিংসে এসেছে মাত্র ৫৭২ রান।
এমসিজিতে টসে জিতে আগে বল করে প্রথম ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াকে মাত্র ১৫২ রানে অলআউট করে দেয় ইংল্যান্ড। প্রথম ইনিংসে সফরকারীদের আরও কম মাত্র ১১০ রানে গুটিয়ে ৪২ রানের লিড পায় অজিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের দলকে মাত্র ১৩২ রানে অলআউট করে দিলে ইংল্যান্ডের জয়ের লক্ষ্য দাঁড়ায় ১৭৫ রান যা ৪ উইকেট হাতে রেখে জিতে নেয় স্টোকসের দল। দুই ইনিংসে ৭ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জিতেছেন জশ টাং।
প্রথম ইনিংসে ৪২ রানের সাথে আরও ৪ রান যোগ করে প্রথম দিন শেষ করেছিল অজিরা। তবে দ্বিতীয় দিন ব্যাটে নেমে ব্রাইডন কার্স ও স্টোকসের তোপে পড়ে অজিরা। দ্বিতীয় ইনিংসে ট্রাভিস হেডের সর্বোচ্চ ৪৬, স্মিথের অপরাজিত ২৪ এবং ক্যামেরন গ্রিনের ১৯ রান ছাড়া অজিদের আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। কার্স ৪টি, স্টোকস ৩টি, টাং ২টি এবং অ্যাটকিনসন একটি উইকেট নিয়েছেন।

১৭৫ রানের জয়ের লক্ষ্যে শুরুটা ভালো করেন ইংল্যান্ডের দুই ওপেনার জ্যাক ক্রোলি ও বেন ডাকেট। ক্রোলি ৩৭ এবং ডাকেট ৩৪ রান করে সাজঘরে ফেরেন। ইনিংসে সর্বোচ্চ ৪০ রানের ইনিংস খেলেন জ্যাকব বেথেল। এছাড়া হ্যারি ব্রুকের অপরাজিত ১৮ রানে ৬ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ইংল্যান্ড।
অজিদের তিন পেসার মিচেল স্টার্ক, ঝাই রিচার্ডসন এবং স্কট বোল্যান্ড ২টি করে উইকেট নিয়েছেন।


