বাংলা সংগীতজগতে শোকের ছায়া। চলে গেলেন কিংবদন্তী রবীন্দ্রসংগীতশিল্পী অর্ঘ্য সেন। দীর্ঘদিন বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগে বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে ৯০ বছর বয়সে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
রবীন্দ্রসংগীতকে তিনি যে উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন, তা এককথায় অনন্য। সংগীত বিশেষজ্ঞরা বলেন, অর্ঘ্য সেনের গলায় রবীন্দ্রনাথের গান যেন রূপ পেত আরও গভীর অনুভূতির। তার কণ্ঠে ‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়ে ছিলে’ বা ‘আমার মাথা নত করে দাও’ শুধুই সুরেলা পরিবেশনা নয়, বরং শ্রোতার হৃদয়ের অন্তঃস্থলে পৌঁছে যাওয়া এক আত্মিক অভিজ্ঞতা। সুর, ব্যাকরণ ও আবেগের অনন্য মেলবন্ধনে প্রতিটি গান হয়ে উঠত যেন এক ধ্যানমগ্ন সাধনা।
শুধু শিল্পী হিসেবে নয়, শিক্ষক হিসেবেও অর্ঘ্য সেন ছিলেন অদ্বিতীয়। তিনি বিশ্বাস করতেন, রবীন্দ্রসংগীত শিখতে হলে শুধু সুরের জ্ঞান যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন চরিত্র, অভ্যন্তরীণ অনুভূতি ও কবির ভাবধারাকে অনুধাবন করা। শিক্ষক হিসেবে তিনি ছাত্রছাত্রীদের কাছে ছিলেন এক আলোকবর্তিকা।
তাঁর শিল্পসাধনার স্বীকৃতি হিসেবে ১৯৯৭ সালে তিনি সংগীত একাডেমি পুরস্কার। পরবর্তী সময়ে ‘টেগোর ফেলো’ সম্মানও তাঁর ঝুলিতে যোগ হয়, যা তাঁকে প্রতিষ্ঠিত করে রবীন্দ্রসংগীতের এক অপূর্ব দিশারী হিসেবে। তবে পুরস্কারের চেয়ে তাঁর রেখে যাওয়া গানই আজ সবচেয়ে বড় স্মৃতি!
অর্ঘ্য সেনের প্রয়াণের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সংগীত অঙ্গনে শোকের ছায়া নামে। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় শোকপ্রকাশ করে বলেন, বাংলার সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে এটি এক অপূরণীয় ক্ষতি। সংগীতমহলের প্রবীণ থেকে নবীন, সকলেই অর্ঘ্য সেনকে মানেন। তাঁর মৃত্যু মানে রবীন্দ্রসংগীতের এক দৃঢ় স্তম্ভ ভেঙে পড়া। ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস








