ভোটের উত্তাপ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতির ময়দানে সাবেক মিত্রদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাম্প্রতিক ‘জামায়াত ও রাজাকারি’ মন্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছেন ঠাকুরগাঁও-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন।
রোববার ২৫ জানুয়ারি তিনি বলেন, বিএনপি যখন আমাদের কাঁধে ভর দিয়ে ক্ষমতায় গেছে। তখন কি আমরা রাজাকার ছিলাম না? তিনি দাবি করেন, ক্ষমতার প্রয়োজন ফুরোতেই জামায়াতকে বিতর্কিত করার চেষ্টা চলছে।
ছাত্রশিবিরের সাবেক এই সভাপতি তাঁর ‘শ্রদ্ধেয় শিক্ষক’ মির্জা ফখরুলের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে ‘হাস্যকর’ ও ‘দ্বিচারিতা’ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, জামায়াত কোনো নতুন দল নয়। বরং বিএনপির চেয়েও পুরোনো রাজনৈতিক সংগঠন। তাঁর ভাষায়, ১৯৯১ সালে বিএনপি এককভাবে সরকার গঠনে সক্ষম ছিল না। আমাদের সহযোগিতায় তারা ক্ষমতায় আসে। ২০০১ সালেও জোটবদ্ধভাবে সরকার গঠন হয়।
যুদ্ধাপরাধ প্রসঙ্গ টেনে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের করা তালিকায় যুদ্ধাপরাধীর সংখ্যায় প্রথমে আওয়ামী লীগ, দ্বিতীয়তে বিএনপি, আর জামায়াতের নাম ছিল মাত্র ৩৬ জনের। অথচ আজ সব দায় আমাদের ঘাড়ে চাপানো হচ্ছে।
নির্বাচনী বক্তব্যে ধর্মীয় আবেগও তুলে ধরেন জামায়াত প্রার্থী। তিনি বলেন, শরিয়াহ আইন না মানলে মুসলমানিত্ব প্রশ্নবিদ্ধ হয়। একই সঙ্গে সংখ্যালঘু ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারাই বিচার করুন—কারা প্রকৃত অর্থে ন্যায়বিচার ও সম্প্রীতির রাজনীতি করতে চায়। জামায়াত ক্ষমতায় এলে বাংলাদেশকে ‘সম্প্রীতির দেশ’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
দীর্ঘ ১৭ বছর পর জনগণ অবাধভাবে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছে উল্লেখ করে দেলাওয়ার হোসেন বলেন, কালো টাকা ও পেশিশক্তির ব্যবহার ইতোমধ্যে বন্ধ হয়েছে। এবার ভোটকেন্দ্র দখল কিংবা ব্যালট ছিনতাইয়ের কোনো সুযোগ নেই।
সভায় অন্য দল থেকে ৩৬ জন নেতাকর্মীর জামায়াতে যোগদানের ঘোষণাও দেওয়া হয়, যা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
আওয়ামী লীগ অংশগ্রহণহীন এই নির্বাচনে ঠাকুরগাঁওয়ের রাজনীতিতে এখন মূল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু—মির্জা ফখরুলের ব্যক্তিগত প্রভাব ও অভিজ্ঞতার বিপরীতে জামায়াতের সুসংগঠিত ভোটব্যাংক। সাবেক মিত্রদের এই মুখোমুখি লড়াই শেষ পর্যন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল।







