২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল ‘স্লামডগ মিলেনিয়ার’ ছবিটি, যে ছবিটি সেই সময় অস্কারের মঞ্চে শুধুমাত্র পুরস্কৃত হয়েছিল তা নয়, বহু মানুষের প্রশংসার পাত্র হয়েছিল। এই সিনেমায় একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনিল কাপুর। জানলে হয়তো অবাক হয়ে যাবেন, ছবি মুক্তির দুই দশক পরেও সিনেমার টিমের তরফ থেকে বেতন পান অনিল।
সম্প্রতি ইন্ডিয়া টুডে কনক্লেভ ২০২৬- এর একটি অধিবেশনে অনিল কাপুর জানান, ২০০৮ সালে অস্কারজয়ী স্লামডগ ছবির জন্য তিনি এখনও পারিশ্রমিক পান। অনিল বলেন, ‘আমি এই কথাটি সবার সঙ্গে শেয়ার করতে চাই। দেড় দশকের বেশি সময় হয়ে যাওয়ার পরেও আজও আমি স্লামডগ ছবির বেতনের চেক পাই।’
তবে শুধু পারিশ্রমিকের কথা প্রকাশে এনেছেন তা নয়, তিনি কত টাকা বেতন পান সেটাও কিন্তু বলেছেন সর্বসমক্ষে। অনিল বলেন, ‘গতকাল ৩০০০ পাউন্ড টাকা আমার একাউন্টে এসেছে। যেহেতু আমি সমস্ত কর মিটিয়ে দিই তাই আমি টাকার অঙ্ক বলতেই পারি। আমি সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধ মিলিয়ন পাউন্ড পাব। কিন্তু আমি এই পারিশ্রমিক কারও থেকে দাবি করিনি, ওরা নিজেরাই এটা দিয়েছে।’
ছবি প্রসঙ্গে অনিল আরও বলেন, ‘ড্যানি বয়েলের সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হওয়ার কারণ ছিল আমি নিজেকে আরও বেশি শিক্ষিত করতে চেয়েছিলাম। আমি এই সিনেমার মাধ্যমে অনেক কিছু শিখেছি। কিন্তু প্রথমে এই সিনেমায় কাজ করার জন্য আমি কোন পারিশ্রমিক পাইনি, বিনামূল্যে কাজ করার অফার আসে আমার কাছে। কিন্তু শুধুমাত্র শেখার জন্যই আমি সেই অফার গ্রহণ করেছিলাম।’
এই সিনেমায় মুম্বাইয়ের বস্তি থেকে উঠে আসা একজন ১৮ বছর বয়সী ছেলেকে দেখানো হয়েছিল, যে ‘কৌন বানেগা ক্রোড়পতি’ নামের একটি গেম শোতে অংশগ্রহণ করেছিল যার উপস্থাপক ছিলেন অনিল কাপুর ওরফে প্রেম কুমার।
এই সিনেমায় দেখানো হয়েছিল একজন নিরক্ষর ব্যক্তি শুধুমাত্র নিজের জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে জ্ঞান অর্জন করে কীভাবে একের পর এক প্রশ্নের উত্তর দিয়ে কোটিপতি হয়ে যায়। শুধুমাত্র এই সিনেমার গল্প নয়, সিনেমার গানও মানুষের মধ্যে জায়গা করে নিয়েছিল।
২০০৮ সালের ছবিটি ২০০৯ সালে ১০টি একাডেমি পুরষ্কারের জন্য মনোনীত হয়েছিল এবং এর মধ্যে ৮টি জিতেছিল, যার মধ্যে সেরা পরিচালক এবং সেরা ছবি ছিল।


