পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তায় বেড়ানোর জন্য পর্যটকদের অন্যতম পছন্দ ‘চান্দের গাড়ি।’ বান্দরবান, সাজেক, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, কক্সবাজার, সিলেট, মৌলভীবাজার, শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জ-এর পাহাড়ি পথে ছুটে চলে নানা রঙের ‘চান্দের গাড়ি।’
খোলা ছাদের বাহারি রঙের জীপকেই স্থানীয়রা ‘চান্দের গাড়ি’ বা ‘চাঁদের গাড়ি’ বলে থাকেন। ৮-১০ জনের বসার ব্যবস্থা থাকে এসব গাড়িতে।
শ্রীমঙ্গল জীপ শ্রমিক সমিতির চেয়ারম্যান ময়না মিয়া জানান, ‘ফোর হুইলের জীপগুলো পর্যটকদের ভ্রমনের আনন্দ বাড়িয়ে দেয় অনেকটা। অপেক্ষাকৃত খরচ কম হওয়ায় এই আনন্দ বঞ্চিত হতে চান না কেউই। শীতের এই একটা সিজনে প্রধানত এই ব্যবসাটা ভালো চলে।’
ঢাকা থেকে দুইরাতের জন্য শ্রীমঙ্গল বেড়াতে আসেন তরিকুল আলম। তিনি বেড়ানোর জন্য দু’টি চান্দের গাড়ি বুক করে ফেলেন দু’দিনের জন্য। তিনি বলেন, ‘পুরো ট্যুরটা ছিল তাদের পরিবারের জন্য খুবই আনন্দদায়ক ও স্মৃতিময়।’
‘চায়ের রাজধানী’ নামে খ্যাত শ্রীমঙ্গলে চান্দের গাড়ির সংখ্যা প্রায় ৬০টি। পাঁচ তারকা রিসোর্ট থেকে শুরু করে সাধারণ সকল হোটেল-রিসোর্ট থেকেই পর্যটকরা চান্দের গাড়ি বুকিং করেন।
প্রায় দুইবছর যাবত শ্রীমঙ্গলে এই গাড়িগুলো লাল রঙের হয়ে গেছে! চান্দের গাড়ির চালক সোহাগ জানান, ‘গাড়ির মালিকরা পর্যটকদের আকর্ষণ বাড়াতে লাল রঙ করেছেন। এতে পর্যটকরাও বেশ খুশি হন।’
গাড়ির চালকেরা অনেকাংশে ট্যুর গাইডের কাজও করে থাকেন। তাদের পরিচিত এলাকা হওয়ায় পর্যটকদের সঠিক গাইড করতে পারেন চালকরা।
আরেক চালক লালন জানান, ‘শীতের একটাই সিজন আমাদের। যাত্রীদের সাথে ভাড়া ঠিকঠাক করেই ভ্রমন শুরু করেন তারা। বেশির ভাগ যাত্রীই ভ্রমনে খুশি হন, কেউ কেউ ভালো বখশিসও দেন।’
কমলগঞ্জ পর্যটন উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি মোঃ শাহীন আহমেদ জানান, ‘চান্দের গাড়িতে বেড়িয়ে পর্যটকরা যথেষ্ট আনন্দ উপভোগ করেন, ব্যতিক্রম ছাড়া, চালকরা খুব আন্তরিক।’
শ্রীমঙ্গলের গাড়িগুলো লাউয়াছড়া রেইন ফরেস্ট, মাধবপুর লেক, নূরজাহান চা বাগান, দার্জিলিং টিলা, লালটিলা, হামহাম জলপ্রপাত, মনিপুরী পাড়া, নীলকন্ঠ, বাইক্কা বিল, মাধবকুন্ড ঝর্ণা পর্যন্ত এই চান্দের গাড়ির যাতায়াত করে।
চান্দের গাড়ি গুলোর লাইসেন্স ও ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও আন্তরিকতা নিয়ে প্রশ্ন নাই। তবু রঙিন জীবনে আনন্দ চলে চান্দের গাড়িতে।








