গত ২১ জানুয়ারী ভারতের উমরি গ্রামের প্রান্তে একটি নদীর তীরে ১৯ বছর বয়সী সনাতন ধর্মাবলম্বী কাজল (১৯) এবং মুসলিম ধর্মাবলম্বী মোহাম্মদ আরমান (২৭) দম্পতির মৃতদেহ পাওয়া গেছে। এ হত্যাকাণ্ডে পুরো গ্রাম স্তব্ধ হয়ে পড়েছে।
বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তাদের কোদালের বাট দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় কাজলের তিন ভাইকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। কাজলের ভাইরা হলেন রাজারাম, সতীশ এবং রিঙ্কু সাইনি। তারা মোরাদাবাদ শহরে রাজমিস্ত্রি হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তারা পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন এবং হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে তারা কোনও মন্তব্য করেননি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এই গ্রামে হিন্দু এবং মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের প্রায় ৪০০ পরিবার বাস করেন। তাদের কয়েকজন সাংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের মধ্যে ভালো সম্পর্ক রয়েছে এবং ধর্মীয় বিরোধের কোনও ইতিহাস নেই।
রাজ্য পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল মুনিরাজ জি বলেন, পুলিশ এটিকে “নিজ সম্প্রদায়ের সম্মান রক্ষার্থে হত্যা” উল্লেখ করে নিজের জাত বা ধর্মের বাইরে বিয়ে করার জন্য শাস্তি দেওয়ার জন্য হত্যা করা হয়েছে বলে জানান।
গ্রামের বাসিন্দা মহিপাল সাইনি বলেন, কাজল এবং আরমানের সম্পর্ক তাদের গ্রামে আন্তঃধর্মীয় সম্পর্কের প্রথম ঘটনা ছিল।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে উমরির অপর এক বাসিন্দা জানান, কাজল এবং আরমান প্রতিবেশী ছিলেন এবং একে অপরের মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাকতেন। তারা অন্তর্মুখী স্বভাবের ছিলেন এবং তাদের খুব বেশি বন্ধু ছিল না বলে জানান তিনি।
কাজল গ্রামের একটি বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকতা করতেন। আরমান চার বছর সৌদি আরবে কাটানোর পর প্রায় পাঁচ মাস আগে গ্রামে ফিরে আসেন। তার আত্মীয়স্বজনরা জানিয়েছেন, তিনি সেখানে খুব বেশি আয় করতে পারেননি। তাই ফিরে আসার পর স্থানীয় পাথর ভাঙার ঠিকাদারের সাথে কাজ করতেন।
কাজলের বাবা গণপত সাইনি বলেন, খুনের সময় তিনি এবং তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। তারা গ্রামের উপকণ্ঠে একটি চালায় ঘুমাচ্ছিলেন যেখানে তারা সাধারণত তাদের গবাদি পশু পাহারা দেওয়ার জন্য রাত কাটান। এসময় তিনি তার মেয়ের জন্য শোক প্রকাশ করেন।
গণপত সাইনি বলেন, ১৯ জানুয়ারী সকালে যখন তিনি এবং তার স্ত্রী বাড়ি ফিরে আসেন, তখন তারা কাজলকে বাড়িতে খুঁজে পাননি। তিনি জানান, মৃতদেহ পাওয়ার পরই তিনি খুনের কথা জানতে পারেন।
আরমানের বড় ভাই ফরমান আলী বলেন, তার ভাই গত ১৮ জানুয়ারী রাতের খাবার খেয়ে বাবা-মায়ের জন্য কিছু ওষুধ নিয়ে আসার কথা বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরের দিন সকালেও যখন সে ফিরে আসেনি এবং তার ফোন বন্ধ থাকায়, তারা আতঙ্কিত হয়ে পুলিশের কাছে যান। পরে গ্রামে তল্লাশি চালায় পুলিশ।
পুলিশ জানায়, কাজলের ভাইরা ২০ জানুয়ারী আরমানের বিরুদ্ধে কাজলকে অপহরণের অভিযোগ দায়ের করে পুলিশকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছিল। পরে পুলিশ উভয় পরিবারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে কাজলের ভাইদের বক্তব্যে অসঙ্গতি খুঁজে পায়। এ ঘটনায় আরও তদন্ত করে পুলিশ মৃতদেহগুলো দাফনের স্থানের সন্ধান পায়।
আরমানের ভাই ফরমান আলী বলেন, তাদের সম্পর্কের বিষয়ে সে আমাদের কখনও কিছু বলেনি। আমরা সারাদিন তাকে খুঁজে না পেলে তার বন্ধুরা আমাদের জানায়, প্রায় দুই মাস ধরে সে কাজলের সাথে দেখা করছে।
এ ঘটনায় কোনও ধর্মীয় সহিংসতা না হওয়ার জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।








