২০২৪ এর জুলাইয়ের ৫ আগস্ট বানিয়াচংয়ে পুলিশ হত্যা নিয়ে সাম্প্রতিক বিবিসি’ রিপোর্ট প্রসঙ্গে জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, এই পুলিশ হত্যার দায় অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতার ওপর দেয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
শনিবার ২৬ জুলাই দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বেরীরপাড় পয়েন্টে ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচির সমাবেশে বক্তব্য দেয়ার সময় এসব কথা বলেন তিনি।
‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসুচির ২৭ তম দিনে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ মৌলভীবাজার জেলার জেলা সদর ও শ্রীমঙ্গলে সভা সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থানের পর নানা শক্তি চেষ্টা করছে পুরনো সিষ্টেমে ফিরিয়ে আনার। এই অন্তর্বতী সরকারের কাছে আমাদের অনেক দাবি ছিল। আমাদের স্বপ্নকে বাদ দিয়ে নির্বাচনকে একমাত্র দাবিতে রূপান্তর করে ফেলা হয়েছে। আমরা গণতন্ত্রের পক্ষে লড়াই করা শক্তি। আমরা নির্বাচন চাই। সংস্কার ছাড়া নির্বাচন অর্থহীন হবে। এ নির্বাচনকে জনগণ গ্রহণ করবে না। বিচার ও সংস্কারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
এনসিপি আহবায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর আমাদের আকাঙ্খা ছিল আকাশ চুম্বি। তরুণরা কর্মসংস্থানের দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। জনগণ বৈষম্য নিরসনের দাবিতে রাজপথে নেমেছিল। বাংলাদেশের মানুষেরা মানবিক মর্যাদা, নিজেদের স্বাধীনতার জন্য রাজপথে নেমেছিল। আমরা আমাদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও কর্ম সংস্থানের দাবি পুরণ করতে পারি নাই।
তিনি বলেন, আমাদের ভাইয়েরা শহীদ হয়েছে, বোনেরা নির্যাতিত হয়েছে। আমরা বাংলাদেশকে পুরোনো সিষ্টেমে, ফেরত যেতে দেব না। নতুন সিষ্টেম, নতুন আইন লাগবে। আমাদের নতুন সংবিধান প্রয়োজন, যে সংবিধান ৪৭ এর আজাদী লড়াই, ৭১ এর স্বাধীনতা সংগ্রাম, ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের স্বীকৃতি দেয়া থাকবে। সকল জাতি ধর্মের মানুষের সমান অধিকার নিশ্চিত করা হবে। ৭২’এর সংবিধানকে রক্ষা করার জন্য একটি গোষ্ঠী রাজপথে নেমেছে। ৭২ এর সংবিধান পুনর্বহাল মানে স্বাধীনতার আকাঙ্খাকে ধ্বংস করে দিয়ে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার চক্রান্ত।
এনসিপি আহবায়ক বলেন, মৌলভীবাজার একটি সীমান্তবর্তী জেলা। ভারতের ত্রিপুড়া আসাম মৌলভীবাজারের সীমান্ত। আসামে বাঙ্গালী বিরোধী আন্দোলন হচ্ছে। আসামে বাংলাভাষী মুসলমান এবং হিন্দুদের বাংলাদেশী সাব্যস্ত করে তাদের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হচ্ছে। এনআরসি আইনের মাধ্যমে এর নামে সেদেশের বাঙ্গালী মুসলমানদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করে রাখা হয়েছে। আমরা বাংলাদেশে যে সম্প্রীতির রাজনীতি চালু করতে চাই তা দক্ষিণ এশিয়ার বাংলা ভাষাভাষীদের মধ্যে ছড়িয়ে দেব। দক্ষিণ এশিয়ার মুসলমান এবং বাংলা ভাষীদের পক্ষে বাংলাদেশ লড়াই করবে।
এনসিপির সদস্য সচিব আক্তার হোসেন বলেন, নতুন বাংলাদেশে যারা জনপ্রতিনিধি হবেন তাদের স্বচ্ছ থাকতে হবে। আমরা অর্থনীতির পাচার, লুটেরা অর্থনীতি দেখতে চাই না।
এনসিপি’র মুখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, আগামি ৩ আগস্ট ঢাকায় শহীদ মিনারে জুলাই বিপ্লবীদের দেখা হবে। সরকার জুলাই বিপ্লবীদেরকে জুলাই ঘোষনাপত্র প্রণয়নের আশ্বাস দিয়েছিল। কিন্তু সেটা করেন নাই। এবার জনগণের জুলাই বিপ্লবের ঘোষনাপত্র জনগণ দেবে। আমরা রক্ত দিয়েছি আর দিতে চাই না, এবার চাকুরি চাই। এনসিপি ক্ষমতায় গেলে দেশের ৬৪ জেলায় তরুণদের জন্য চাকুরির ব্যবস্থা করবে।
রংপুর থেকে শুরু হওয়া জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) ‘দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসুচি ২৭তম দিনে শনিবার মৌলভীবাজারের জেলা সদরের শহীদ মিনার থেকে শুরু করে। পরে শহরের বেরীরপাড় পয়েন্টে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এরপর জুলাই পদযাত্রায় অংশগ্রহনকারীরা জেলার শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভিক্টোরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে একটি সভায় বক্তব্য রাখেন।








