‘শুধু তোমার জন্য’ গানটি দিয়ে সংগীতশিল্পী হিসেবে মানুষের মাঝে আসেন ধ্রুব গুহ। প্রথম গানেই শ্রোতাদের মন জয় করে নেন তিনি। এরপর একে একে উপহার দেন ‘যে পাখি ঘর বোঝেনা’, ‘আদরে রাখিও বন্ধু’, ‘একলা পাখি’সহ আরো কয়েকটি গান। সবগুলো গানই সাদরে গ্রহণ করেন প্রায় সব শ্রেণী-পেশার মানুষ। দীর্ঘ এক বছর বিরতির পর শিগগরি আসছে তাঁর নতুন চমক। গান গাওয়া ছাড়াও ধ্রুব গুহ’র আরেকটি পরিচয় হলো তিনি বাংলা গানের অন্যতম প্রধান পৃষ্ঠপোষক, ধ্রুব মিউজিক স্টেশন-এর কর্ণধার।
নিজের গান, বাংলা গান, এবং বাংলা গানের সম্ভাবনার নানান বিষয়ে চ্যানেল আই অনলাইন-এর সাথে কথা বলেছেন তিনি-
ভক্তদের নতুন গানের খবর দিলেন। গানটি নিয়ে একটু বলুন…
অনেক দিন পর আমার গান আসছে। গানটির নাম ‘তোমার ইচ্ছে হলে’। আহমেদ রিজভী’র কথা ও সুরে, তরিক আল ইসলামের সংগীতায়োজনে গানটির ভিডিওতে মডেল হযেছেন বলিউডের আলোচিত অভিনেত্রী মোনালিসা। অরিত্র কর্মকার-এর নির্দেশনায় গানটির শুটিং করেছি কলকাতার’র বিভিন্ন লোকেশনে। বরাবরের মতো এই গানটি নিয়েও আমি দারুণ আশাবাদী। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় ধ্রুব মিউজিক স্টেশন-এর ইউটিউব চ্যানেলে গানটি প্রকাশ করা হবে।
আপনার আগের গানগুলো দারুণ জনপ্রিয়তা পেয়েছে। তবু এত কম গান করছেন কেন?
ভালো কিছু করতে হলে যথেষ্ট সময় নিতে হয়। হুটহাট করেও মাঝে মাঝে ভালো গান হয়ে যায়, কিন্তু তেমনটা আশা না করে সময় এবং চর্চার উপর আস্থা রাখাই শ্রেয়। সময় লাগলেও গানের কোয়ালিটিতে কখনো ছাড় দেইনি। তাছাড়া আমাকে ডিএমএস-এর কর্মপরিকল্পনা ও সেসবের বাস্তবায়নের কথাও ভাবতে হয়। প্রচুর সময় ও শ্রম যায় সেদিকেই।
সংগীতচর্চার পাশাপাশি পৃষ্ঠপোষকতাও করছেন, ধ্রুব মিউজিক স্টেশন-এর আসন্ন আয়োজনগুলো নিয়ে একটু বলবেন?
৫ জুলাই সন্ধ্যায় এসেছে জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরের নতুন গান ‘আগুন-পানি’। তরুণ মুন্সি’র কথা, সুর, ও সংগীতে গড়া গানটির ভিডিও বানিয়েছেন সৈকত নাসির। গানের গল্পে আসিফ আকবরের সাথে অভিনয় করেছেন ছোটপর্দার তুখোড় অভিনেত্রী মৌসুমী হামিদ। গানটির গল্পে একটা সিনেমাটিক ব্যাপার আছে যা নিঃসন্দেহে বিমোহিত করবে শ্রোতা-দর্শকদের। তার কয়েকদিন পর আসবে আমার নতুন গান ‘তোমারে ইচ্ছে হলে’। মাঝখানের সময়টায় থাকবে স্বপ্নীল সজীব ও ইমন চত্রবর্তীর একটি গান।
তাছাড়া, নিয়মিতভাবে আরো বেশ কিছু চমক নিয়ে আগের মতোই হাজির হবে ডিএমএস।
ধ্রুব মিউজিক স্টেশন পথচলার শুরুর দিকে নতুন শিল্পীদের নিয়ে কাজ করার আশ্বাস দিয়েছিলো, সেটা কি আসলে হচ্ছে?
এখনো লাইমলাইটে আসেনি এমন অনেক শিল্পীর গান করেছি আমরা। আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে গেলেই সেটা দৃশ্যমান হবে। আরেকটা কথা হলো, আমরা নতুন কিংবা প্রতিষ্ঠিত শিল্পী দেখার আগে দেখি গানটা কতোটা মানসম্পন্ন। ভালো গান হলে সিনিয়র-জুনিয়র বিষয়টা মাথায় রাখিনা। পরিবেশনের সময় আমরা আমাদের শতভাগই উজাড় করে দেই তখন। আর মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি এখন ওতোটা স্ট্যাবল পজিশনে নেই। তবুও নতুনদের জন্যে পথ খোলা আছে, থাকবে।
ভালো গানকে প্রাধান্য দেয়ার কথা বলছিলেন, প্রতিভা থাকলেও ভালো গান তৈরিতে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাটাও তো লাগে। আমাদের কি সেরকম কোন প্লাটফর্ম আছে?
দুঃখজনক হলেও সত্যি যে আমাদের তেমন কোন প্লাটফর্ম নেই। থাকলেও যথাযত কার্যক্রম এবং পৃষ্ঠপোষকতার অভাবে ধুঁকছে হয়তো। ব্যক্তিগত পর্যায়ে অনেকে শেখার সুযোগটা মোটামুটি পাচ্ছে। কিন্তু বড় পরিসরে শেখার ভালো কোন জায়গা তৈরি হয়নি এতবছরেও। সরকারের এ বিষয়ে আরো সুনজর দেয়া দরকার। আবার শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলেও হবেনা। বাংলা গানের সমৃদ্ধ ভাণ্ডারকে আরো সমৃদ্ধ করতে এবং বাংলা গানের গতিপথ ঠিক রাখতে সঙ্গীতসংশ্লিষ্ট সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে, যুদ্ধ করতে হবে।
দুর্দিনে এই দায়িত্ব কি ধ্রুব মিউজিক স্টেশন নিতে পারেনা?
এককভাবে এতো বড় দায়িত্ব কেউ-ই নিতে পারবে না। নিলেও সফল হবে বলে মনে হয়না। এ জন্যে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ, সভা-সেমিনার, প্রচেষ্টা। তবেই ভালো কিছু হবে। সম্মিলিত উদ্যোগ হলে ধ্রুব মিউজিক স্টেশন অবশ্যই ভূমিকা রাখবে।
জনসংখ্যার দিক থেকে বিশ্বে আমরা অষ্টম স্থানে আছি । এই নিরিখে আমাদের মার্কেটটাও বড়। আমাদের গান এবং কোম্পানিগুলো তো সুবিধাজনক অবস্থায়-ই থাকার কথা। আপনার কি মনে হয়?
এটা এক দৃষ্টিতে ঠিক আছে। কিন্তু আমাদের দেশের মানুষ কি শুধু আমাদের গানই শুনছে? অনেকেই পাশের দেশের গান কিংবা ইংরেজী গান নিয়েই মেতে আছে। আর, আমার তো মনে হয় বাংলা ভাষার বিবেচনায় পশ্চিমবঙ্গেও আমাদের গানগুলো প্রকাশ করার সুযোগ আছে। এটা করতে পারলে আমাদের গানের বাজার আরো বড় হবে। শেয়ারিং বাড়বে, কম্পিটিশন বাড়বে। এতে করে গানের মানও বাড়বে। যেভাবেই হোক গানের মান এবং ডিস্ট্রিবিউশন যদি নিয়মিতভাবে মেনটেইন করা যায় তবে একদিন আমাদের গানও সারাপৃথিবীর মানুষ শুনবে। তখন গান নিয়ে বিশ্বদরবারে আমরাও ভালো অবস্থায় থাকব।







