ডাভিড মালান এবং জো রুটের বড় জুটিতে ব্রিসবেন টেস্টে বেশ ভালোভাবেই ফাইট ব্যাক করেছিল ইংল্যান্ড। ২ উইকেটে ২২০ রান নিয়ে তৃতীয় দিন শেষ করা ইংলিশদের ব্যাটিং লাইনআপ চতুর্থ দিনের প্রথম সেশনে তাসের ঘরের মতো ভাঙতে মোটেও সময় লাগল না। আর মাত্র ৭৭ রান যোগ করেই শেষ ৮ উইকেট হারিয়ে ২৯৭ রানেই গুটিয়ে যায় তাদের দ্বিতীয় ইনিংস।
সফরকারীরা তাদের ইনিংস পরাজয় এড়াতে পারলেও মাত্র ১৯ রানের লিড পায়। লাঞ্চ বিরতির পর সেই রান টপকাতে অজিরা এক উইকেট হারালেও ৯ উইকেটের বড় জয়ের আনন্দে তারা মেতে ওঠে।
এই জয়ের ফলে অ্যাশেজ সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে নিজেদের প্রথম ম্যাচেই অস্ট্রেলিয়া পূর্ণ ১২ পয়েন্ট অর্জন করে ফেলেছে।
প্রথম ইনিংসে ব্যাটিং বিপর্যয়ের পর জো রুটের দল যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তাতে করে দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়াই উল্টো চাপে থাকবে বলে নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক অ্যালিস্টার কুক। অথচ শনিবারের সকালে উল্টো ইংলিশ শিবিরেই শনির দশা ভর করে বসে।
সেঞ্চুরির অপেক্ষায় ছিলেন দুই সেট ব্যাটার ডাভিড মালান এবং জো রুট। তাদের কেউই তিন অংকের ঘরে ব্যক্তিগত রানকে টেনে নিতে পারেননি। বিপর্যয়ের শুরু ডাভিড মালানকে দিয়ে। নাথান লায়নের বল স্টেপ আউট করে খেলতে যাওয়া মালানের ব্যাটে বল লাগার পর তা প্যাডে স্পর্শ করে। সিলি মিড অনে থাকা মার্নাস লাবুশেন বল তালুবন্দি করলে ফিল্ডাররা সমস্বরে আবেদন করলে রড টাকার আঙুল তোলার সঙ্গে সঙ্গে টেস্ট ক্যারিয়ারে নিজের ৪০০তম উইকেট পেয়ে যান লায়ন। চমকপ্রদ ব্যাপার হল, ৩৯৯ থেকে ৪০০ উইকেট পাওয়ার জন্য লিওনকে দীর্ঘ ১১ মাস অপেক্ষা করতে হয়েছে।
১৯৫ বলে ১০ চারের মারে ৮২ রান করার পর মালান সাজঘরে ফেরার পর রুটও বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ক্যামরন গ্রিনউডের করা আউটসুইং বল চালাতে গিয়ে তিনি অ্যালেক্স ক্যারির গ্লাভসে ধরা পড়ায় ১৬৫ বলে ১০ চারের মারে ৮৯ রানেই থামে তার ইনিংস।
বাকি গল্পটা শুধুই অতিথি দলের ব্যাটারদের যাওয়া-আসার; জশ বাটলার (২৩), ক্রিস ওকস (১৬), ও বেন স্টোকস (১৪) তাদের ইনিংস দুই অংকের ঘরে টেনে নিলেও সেগুলো লম্বা করতে পারেননি।
অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে নাথান লায়ন ৯১ রানের বিনিময়ে ৪টি উইকেট দখল করেন। প্যাট কামিন্স ও ক্যামেরন গ্রিন ২টি করে উইকেট পান । একটি করে উইকেট নেন মিচেল স্টার্ক ও জশ হ্যাজেলউড।
লাঞ্চের পর মাত্র ২০ রানের জয়ের লক্ষ্যে নামা অজিদের সব পাওয়ার এই ম্যাচে শুধু একটাই আক্ষেপ থাকতে পারে। ১০ উইকেটে তাদের জয় পাওয়া হয়নি; অ্যালেক্স ক্যারি ৯ রান করে ওলি রবিনসনের বলে বাটলারের গ্লাভসে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। বাকি কাজটুকু সারেন মার্কাস হ্যারিস; ৯ রানে অপরাজিত থেকে বাউন্ডারি মেরে তিনি অস্ট্রেলিয়ার জয় নিশ্চিত করেন। অপর প্রান্তে দাঁড়িয়ে থেকে মার্নাস লাবুশেন কোনো বল না খেলে জয়ের সাক্ষী হয়ে মাঠ ছাড়েন।
প্রথম ইনিংসে আগ্রাসী ব্যাটিং করে ১৫২ রানের ইনিংস খেলা ট্রাভিস হেডের হাতে উঠেছে ম্যাচ সেরার পুরষ্কার।








