কারোরই অস্বীকার করার উপায় নেই- বিদ্যুৎ, গ্যাস এবং পানি ব্যবহারে আমরা অনেকেই সাশ্রয়ী ও সচেতন না। দুঃখজনক হলেও এটাই বাস্তব, এটাই সত্য। এ কারণেই জীবনধারণের অতিপ্রয়োজনীয় এসব সম্পদের অভাব ও সংকট আমরা ক্রমশই অনুভব করছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরেকবার বিষয়টা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলেন।
শনিবার মতিঝিল ও আজিমপুরে সরকারি কর্মচারীদের জন্য নির্মিত বহুতল ভবন উদ্বোধন করে তিনি বলেন, ‘অনেকেই আছেন বাথরুমে গিয়ে পানির কল ছেড়ে দিয়ে গায়ে সাবান দিচ্ছেন, দাঁত মাজছেন, শেভ করছেন, এসব করবেন না। আমি নিজেও বালতিতে পানি নিয়ে গোসল করি।’
প্রধানমন্ত্রী সবাইকে শুধু উপদেশই দিচ্ছেন না, তিনি মনে করেন- যখন কোনো বিষয়ে কাউকে উপদেশ দেবেন; তখন সেটা নিজেকেও তা পালন করতে হবে। এজন্য তিনি নিজেও এসব প্রাকৃতিক সম্পদ সাশ্রয়ে ইতোমধ্যেই উদ্যোগী হয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক উদ্যোগ ও আহ্বানকে আমরা স্বাগত জানাই।
গণমাধ্যমে প্রায়ই গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর আসে। এসব ঘটনায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে দেখা যায়, ঠিকভাবে গ্যাসের চুলা বন্ধ না করায় দুর্ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, মাত্র একটি ম্যাচের কাঠি বাঁচাতেও আমরা মূল্যবান এ প্রাকৃতিক সম্পদের অহরহ অপচয় করে থাকি।
এ নিয়েও আলোকপাত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। ‘সবার জন্য লাইনের গ্যাস দেওয়া যাচ্ছে না’ তা তিনি আরেকবার স্মরণ করে দিয়ে বলেছেন, এ বিষয়ে আমাদের সবাইকে আরও সচেতন হতে হবে।
রাশিয়ায় অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপে জাপানি খেলোয়াড় ও দর্শকদের ড্রেসিংরুম এবং গ্যালারি পরিষ্কারের খবরও সারা পৃথিবীকে আকৃষ্ট করেছে। ফুটবলের ইতিহাসে প্রিয় দল বা দেশের হারে হতাশার বহিঃপ্রকাশে গ্যালারি বা স্ট্যান্ড ভাঙচুরের ভুরিভুরি দৃষ্টান্ত থাকলেও জাপানিরা তার বিপরীতে নতুন ইতিহাসের জন্ম দিয়েছেন। বিশ্ববাসীর পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়ায় বাংলাদেশের অনেক ক্রীড়াপ্রেমীও জাপানের এই ঘটনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
এক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কিছু ‘বদ অভ্যাসের’ চিত্রই তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমি দেখেছি অনেক ভদ্রলোক পানি খেয়ে বোতল রাস্তায় ফেলে দিচ্ছেন, বিরিয়ানী খেয়ে প্যাকেটটা ফেলে দিলেন। গুলশানের ফ্ল্যাট হয়ে গেছে। কিন্তু দুই বিল্ডিংয়ের মাঝে ময়লার ডিপো হয়ে আছে। পরে অনেক কষ্টে সেগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা গেছে। আমরা ক্রমাগত এসব বিষয়ে নজর দেওয়ার কথা বলে যাচ্ছি।’
আমরা মনে করি, জাপানিদের এমন অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত শুধু সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রশংসা করলেই হবে না। এই ধরনের ভালো কাজের অভ্যাস আমাদেরও গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে পানি সাশ্রয়ে প্রধানমন্ত্রীর নিজের দৃষ্টান্তও অনুকরণীয় হতে পারে। এ বিষয়গুলো মেনে চললে সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার পাশাপাশি আমাদের সুনামও সারাবিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে বলে আমরা আশাকরি।








