জটিল ও গুরুত্বপূর্ণ কর্মপদ্ধতির জন্য অত্যন্ত দক্ষ, বাস্তবধর্মী ও প্রযুক্তিনির্ভর শাখা হিসেবে বিবেচনা করা হয় পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) কে। তাদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস, নির্ভরতা, আকাঙ্ক্ষার ব্যপ্তিও ব্যাপক। কিন্তু যখন এই ডিবির বিরুদ্ধে বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর বিরুদ্ধেই অপরাধের অভিযোগ উঠে, তখন জনগণের অসহায়ত্ববোধ প্রবল হয়, তারা স্তম্ভিত হয়, হতবাক হয়, নিরাপত্তাহীনতার ভয়ঙ্কর অনুভূতি তীব্র হয়ে উঠে। আজ তেমনই এক ঘটনায় কক্সবাজারের টেকনাফের ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে ১৭ লাখ টাকা আদায়ের অভিযোগে ডিবি পুলিশের পরিদর্শকসহ ৬ জনকে আটক করে সেনাবাহিনী। সেসময় ডিবি পুলিশের এক এসআই পালিয়ে গেলেও উদ্ধার করা হয় ১৭ লাখ টাকা। আটক ৬ জনকে কক্সবাজারের পুলিশ সুপারের কাছে হস্তান্তর করার পর অভিযুক্ত ৭ পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়, শুরু হয়েছে তদন্ত। এছাড়াও সাম্প্রতিক আরও একটি দুর্নীতির ঘটনা জনগণকে স্তম্ভিত করে। ফরিদপুরের পুলিশ সুপার (এসপি) সুভাস চন্দ্র সাহা ও তার স্ত্রী রীণা চৌধুরীর যৌথ নামে অবৈধভাবে অর্জিত আট কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৩৬৭ টাকার হদিস পাওয়া যায়। যার পরিপ্রেক্ষিতে তাদের বিরুদ্ধে রাজধানীর বংশাল থানায় মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পুলিশ সুপার ওই অর্থ দুদকে দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী কিংবা আয়কর নথিতে উপস্থাপন না করে গোপন রাখেন। দুদকের অনুসন্ধানেও ওই আয়ের যথাযথ উৎস খুঁজে পাওয়া যায়নি। এমন ঘটনাগুলো বাংলাদেশের প্রতিটি মানুষের মতো আমাদেরও স্তম্ভিত করে, আমাদের অসহায়ত্ব বোধ প্রকট করে তোলে। আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে এমন অপকর্মের অভিযোগ সচেতন কাউকে ‘ডি কোম্পানি’র কথা মনে করিয়ে দিলে তাকে কি দোষ দেওয়া যায়? ভারতের সংগঠিত অপরাধ চক্রের প্রধান এবং মোস্ট ওয়ান্টেড ডন দাউদ ইব্রাহিমের সিন্ডিকেটের নাম ডি কোম্পানি, যারা মাদক চোরাচালান থেকে শুরু করে খুন, অপহরনের মতো জঘন্য অপরাধগুলো করে। ভয়ঙ্কর, ঘৃণিত এই অপরাধী চক্রের সাথে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তুলনা নিঃসেন্দেহে অতি বাড়াবাড়ি। কিন্তু অপরাধী গোষ্ঠির কাজই যেখানে ভীতি ছড়ানো সেখানে মানুষের মনে নিরাপত্তা বোধ সৃষ্টিকারী বাহিনী অপরাধে জড়ালে তার ভয়াবহতা কি আরও তীব্র নয়? তার হতাশার মাত্রাওতো অসহনীয়। পুলিশ বা তার বিশেষায়িত ইউনিট ডিবির বিরুদ্ধে অভিযোগও একেবারে বিরল নয়। এমন অন্ধকার চিত্র দেশের প্রতিটি নাগরিকের মতো আমাদেরও উদ্বিগ্ন করে। নিরাপত্তার জন্য আমরা চাই একটি নিষ্কলুষ নিরাপত্তা বাহিনী। গুটিকয়েকজনের বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগ যেন কোন বাহিনীর বিরুদ্ধেই মানুষের বিতৃষ্ণা জাগাতে না পারে, সেদিকে নজর দিতে হবে। অপরাধী যেই হোক তার যথাযথ শাস্তি নিশ্চিতের মাধ্যমেই মানুষের মন থেকে ভয় দূর করা সম্ভব। দেশের সকল শ্রেণীর মানুষ যেনো তাদের যেকোন বিপদে নিঃসংকোচে, নির্দ্বিধায় পুলিশের কাছে যেতে পারে, সুষ্ঠু সেবা প্রাপ্তির নিশ্চয়তা যেন তাদের মনে প্রোথিত হয় তা আমাদের চিরন্তন কামনা। আমাদের প্রত্যাশা কলঙ্কের দাগ মুছে পুলিশ প্রকৃত পক্ষেই জনগণের বন্ধু হয়ে উঠুক, নিরাপত্তা বোধের প্রতীক হয়ে উঠুক।








