প্রযুক্তির উন্নয়নে দেশের ৯৮ শতাংশ মানুষের কাছে পানি সরবরাহ করা গেলেও সবার কাছে নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক। ব্যবহার করা ৪১ ভাগ পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণের কারণে ডায়রিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ বিভিন্ন পানিবাহিত রোগের প্রাদুর্ভাবও বাড়ছে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে ‘বাংলাদেশে পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন, স্বাস্থ্যবিধি ও দারিদ্র্য সংক্রান্ত’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বিশ্বব্যাংক। পানিতে ব্যাক্টেরিয়া থাকায় দেশের এক-পঞ্চমাংশ দরিদ্র মানুষ পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। উচ্চবিত্ত, মধ্যবিত্ত, শহর ও গ্রামের কেউই এ থেকে বাদ যাচ্ছে না।
এই ব্যাক্টেরিয়া পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা পানি, পুকুরের পানি, কুয়া ও টিউবওয়েলসহ বিভিন্ন উৎস থেকে পাওয়া পানিতে ছড়িয়ে আছে বলেও ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর বাইরে আর্সেনিক ঝুঁকির কথাও বলেছে বিশ্বব্যাংক।
কিছুদিন আগেও বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার এক প্রতিবেদনে বাংলাদেশে বিশুদ্ধ পানির সঙ্কটের কথা তুলে ধরে বলা হয়েছিল, মানুষের ৯৭ শতাংশের পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করা গেলেও বিশুদ্ধ পানির অভাব প্রকট। প্রায় সাড়ে ৯ কোটি মানুষ বিশুদ্ধ পানি থেকে বঞ্চিত।
আমরা জানি, নানা চেষ্টার পরও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্নস্থানে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা যায়নি। এর কারণ মূলত পানির বিকল্প উৎস খুঁজে না পাওয়া। আর ভূগর্ভ থেকে ক্রমাগত পানি উত্তোলনেও বড় রকম সংকট তৈরি হয়েছে পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বারবার সতর্ক করছেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ বিশুদ্ধ পানির ভয়াবহ সংকটে পড়বে। যদিও এরই মধ্যে সরকার বৃষ্টির পানি ধরে রেখে দীর্ঘদিন ব্যবহারের ওপর জোর দিয়েছে। এ নিয়ে মানুষকে নানাভাবে সচেতন করেও তোলা হচ্ছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে সেই প্রস্তুতি কতটা এগুচ্ছে তার কোনো পরিসংখ্যান কারো কাছেই নাই।
রাজধানী ঢাকায় ওয়াসা প্রতিদিন অন্তত সোয়া দুই’শ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। কিন্তু নিঃসন্দেহে সেই পানি পান করা যায় সেই নিশ্চিয়তা প্রতিষ্ঠানটি দিতে পারেনি। এ কারণে নগরবাসীকে নানা উপায়ে সেই পানিকে পানযোগ্য করে তুলতে হয়। বিশেষ করে সেই পানির বড় অংশই মূল্যবান জ্বালানি খরচ করে ফুটিয়ে খেতে হয়।
৪১ ভাগ পানিতে ই. কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার যে সংক্রমণের কথা বলা হয়েছে; এই পরিসংখ্যানও ভয়াবহ। এই ব্যাক্টেরিয়াই ডায়েরিয়া, জন্ডিস ও কলেরাসহ নানা রোগের জন্ম দিচ্ছে। বিশেষ করে শিশুরা খুব সহজেই এসব রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।
‘পানির আরেক নাম জীবন’ বা ‘পানিই জীবন’ এই রকম কথার সাথে আমরা সুপরিচিত। কিন্তু সেই পানিকে নিরাপদ রাখতে যে যত্নের প্রয়োজন, তা কি আমরা করছি? আমরা নিশ্চিত করেই বলতে পারি-করছি না। কিন্তু নিজেদের এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের কথা চিন্তা করে আর অবহেলা করা উচিত নয় বলে আমরা মনে করি। এমন অবহেলা সবার জন্যই ভয়াবহ ফল নিয়ে আসবে।








