দেশের কল-কারখানা পরিদর্শনে গতি আনতে চালু করা হয়েছে লেবার ইন্সপেকশন ম্যানেজমেন্ট অ্যাপ্লিকেশন (লিমা) নামের একটি অ্যাপ। এর মাধ্যমে কারখানা পরিদর্শনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহীতা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সনদ দেয়া ও প্রয়োজন অনুযায়ী তাৎক্ষণিক পরিস্থিতি জানা যাবে।
কানাডা, নেদারল্যান্ডস ও যুক্তরাজ্যের আর্থিক সহায়তায় আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর ‘বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পে কর্মপরিবেশ উন্নয়ন’ কর্মসূচির সহযোগিতায় ‘লিমা’ নামের এই অ্যাপটি তৈরি নিয়ে এসেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর (ডাইফ)।
মঙ্গলবার রাজধানীর আমারি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এই অ্যাপটি চালু করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু।
এসময় তিনি বলেন, ‘লিমার প্রচলন ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে যাত্রায় এক বিশাল পদক্ষেপ, এটি প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে পরিণত করা এবং শ্রম-অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ যে দৃঢ় অঙ্গীকারাবদ্ধ তারও প্রমাণ।’
এর মাধ্যমে কারখানা পরিদর্শনে গতি আসবে। স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার নিশ্চিত হবে। একই সাথে মালিক-শ্রমিকের মধ্যে সম্পর্কের উন্নতিও হবে বলে জানান তিনি।
লাইসেন্স বিষয়ে ডাইফকে উদ্দেশ করে চুন্নু বলেন, শ্রম আইন অনুযায়ী কমপক্ষে ৫ জন শ্রমিক কাজ করে এমন কারখানাকেও লাইসেন্স নিতে হবে। কিন্তু আমি মনে করি যদি কোনো কারখানায ৫ জন শ্রমিক কাজ করে, ওই শ্রমিকেরা যদি কারখানা মালিকের পরিবারেরই সদস্য হয় সেক্ষেত্রে লাইসেন্সের দরকার নাই।
ডাইফের মহাপরিদর্শক মো. সামছুজ্জামান ভূঁইয়া বলেন, ডাইফের কাজে একটি নতুন মাত্রা যোগ করবে লিমা। শক্তিশালী হবে ডাইফের কার্যক্রম; যা বিভিন্ন শিল্পখাতে কর্মরত ব্যক্তিদের কল্যাণ, সুরক্ষা ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। এছাড়া এই অ্যাপ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে সহায়ক হবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশে আইএলও’র দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান স্নেহাল সোনেজি বলেন, লিমার মাধ্যমে শ্রম পরিদর্শকরা কাগজ-কলমের বদলে ট্যাবলেট কম্পিউটার ব্যবহার করবে। একইসাথে এটি ডাইফের চলমান অগ্রগতি এবং ডিজিটালাইজেশন ও কাজে স্বচ্ছতা আনবে।
অনুষ্ঠানে লিমা ব্যবহার করতে আইএলও’র দেয়া ২৫০টি অ্যান্ড্রয়েড ট্যাবলেট কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরকে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করেন স্নেহাল সোনেজি।
অনুষ্ঠানে বলা হয়, লিমা কারখানা পরিদর্শন বিষয়ে ডাইফ এর তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ ব্যবস্থাকে উন্নত করবে, চূড়ান্তভাবে যা সব শিল্পের মালিক ও শ্রমিকদের উপকারে আসবে। এটি কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনার সুবিধা দিয়ে শ্রম পরিদর্শন সংক্রান্ত কাজে গতি আনবে। মালিক ও শ্রমিকপক্ষের জন্য নির্দিষ্ট কিছু তথ্য প্রকাশ এবং অনলাইন সেবা, যেমন কারখানার লাইসেন্স প্রদান ও কর্মপরিবেশ সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও অভিযোগের জবাব দেয়ার মাধ্যমে লিমা পরিদর্শন ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করবে।
লিমার মাধ্যমে যেসব কাজ করা যাবে:
১. অনলাইনে কারখানার লেআউট প্ল্যান অনুমোদন এবং লাইসেন্সের জন্য আবেদন, লাইসেন্স নবায়ন ও সংশোধন করা যাবে।
২. শ্রম পরিদর্শনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য লিমার কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে জমা থাকবে; যা প্রতিবেদন তৈরি ও পরিদর্শন ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নিতে ব্যবহৃত হবে।
৩. কর্মক্ষেত্রে পেশাগত দুর্ঘটনা, জখম ও রোগব্যাধি সম্পর্কিত তথ্য জানানো যাবে।
৪. পোশাক কারখানার নিরাপত্তা সংস্কার কাজের অগ্রগতি এবং ডাইফের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট প্রয়োজনীয় তথ্য জানা যাবে।
যেভাবে অভিযোগ করা যাবে:
লিমা সিস্টেমে একটি অভিযোগ বাক্স রয়েছে। যার মাধ্যমে শ্রমিক কিংবা মালিকপক্ষ কর্মপরিবেশ সম্পর্কে ডাইফের নিকট যেকোন অভিযোগ দাখিল করতে পারবে। অনলাইনে http://lima.dife.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে কিংবা স্মার্টফোন অ্যাপের http://bit.ly/2DSTRBI থেকে ডাউনলোড করে অভিযোগ দাখিল এবং তা সুরাহার অবস্থা জানা যাবে।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে ব্রিটিশ হাইকমিশনার এলিসন ব্লেইক, নেদারল্যান্ডস এর অ্যাম্বাসেডর লিউনি কুইলেনারে, কানাডার হাই কমিশনার বেনোয়া প্রিফন্টেইন, বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশন (বিইএফ) এর সভাপতি কামরান টি রহমান, বিজিএমইএর পরিচালক এএনএম সাইফুদ্দিন, বিকেএমইএর ভাইস প্রেসিডেন্ট ফজলে শামীম এহসান, ন্যাশনাল কোঅর্ডিনেশন কমিটি ফর ওয়ার্কার্স এডুকেশনের (এনসিসিডব্লিউই) মেম্বার সেক্রেটারী রাজেকুজ্জামান রতন এবং ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের (আইবিসি) সেক্রেটারী জেনারেল মো. তৌহিদুর রহমান প্রমুখ।








