শ্রম অধিকার লঙ্ঘনের মামলায় নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সাজা নিয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল যে বিবৃতি দিয়েছে তার সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, টিআইবি ও সুজন একই সূত্রে গাঁথা।
‘‘আমরা জানি অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালে কর্মরত আছে তারেক রহমানের আত্মীয় তারীন খান। যিনি ডেইলি স্টারে কাজ করেছেন। এখন তাদের মন্তব্যটা কেমন হবে আগেও লক্ষ্য করেছি। একটা বৈরি মনোভাব এই সরকারের প্রতি তাদের রয়েছে। বাংলাদেশের টিআইবি, সুজনের ভূমিকাও একই সূত্রে গাঁথা।’
বুধবার সকালে ধানমন্ডিস্থ আওয়ামী লীগের সভাপতির কার্যালয়ে সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি।
ওবায়দুল কাদের বলেন, গাজায় ইসরায়েল গণহত্যা চালাচ্ছে। আমরা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের কাছে জানতে চাই আমাদের দেশে শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে মামলার যে রায় স্বাধীন আদালত দিয়েছেন সেটা নিয়ে এতো মাথাব্যথা, গাজায় গণহত্যা নিয়ে তাদের কী ভূমিকা? জানতে চাই। সেখানে ৯৪ জন সাংবাদিকদের হত্যা করেছে। এ ব্যাপারে কিছু বলেছে? এই একজন ব্যক্তির জন্য শ্রমিক অধিকার যে রায়, সে রায়কে তারা কটাক্ষ করছে। ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তো একটা কথাও বলেনি।’
শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতরের করা মামলায় ১ জানুয়ারি গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. ইউনূসসহ চারজনের ছয় মাস করে কারাদণ্ড দেয় ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালত। একইসঙ্গে প্রত্যেককে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
সাজার পরদিন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বিবৃতিতে দিয়ে বলেছে, নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. ইউনূসকে দোষী সাব্যস্ত করা বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবরুদ্ধ দশার প্রতীক। বাংলাদেশে কর্তৃপক্ষ স্বাধীনতাকে খর্ব করেছে। সমালোচকদের দমিয়েছে।
অ্যামনেস্টি আরও বলেছে, ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে যে অস্বাভাবিক গতিতে বিচারকাজ সম্পন্ন হয়েছে, তা বাংলাদেশের অন্যান্য শ্রম অধিকার-সম্পর্কিত আদালতের মামলায় শম্বুকগতির সম্পূর্ণ বিপরীত।
এসময় আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচন কমিশনের প্রসংশা করে বলেন: যেখানেই নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘিত হচ্ছে সেখানেই নির্বাচন কমিশন ব্যবস্থা নিচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে কোন প্রকার হস্তক্ষেপ বা তাদের কর্তব্য পালনে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে আছেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, বিশ্ববাসী ৭ জানুয়ারি বাংলাদেশে জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে একটা ভালো নির্বাচন প্রত্যক্ষ করবে। যেখানে জনমত বিজয়ী হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপি জামাত তারা এখন আন্দোলনে ব্যর্থ হয়ে লিফলেট বিতরণ করছে। তারা ব্যর্থতা ও ভুলের চোরাবালিতে আটকে গেছে। এখান থেকে তারা বেরুতে পারচে না। তাদের নেতিবাচক কর্মসূচি, নাশকতা, অবরোধ জনগণ অগ্রাহ্য করেছে। বিএনপি সহিংসতা করবে না বললেও সেটা সত্যি কথা কিনা সেটা বলার সুযোগ নেই। কারণ তারা বলে একটা, করে আরেকটা। খবর পাচ্ছি তারা ভেতরে ভেতরে ষড়যন্ত্র করছে।
প্রেসব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, দপ্তর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া সহ কেন্দ্রীয় ও মহানগর আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ।








