অবৈধ সম্পদ অর্জন ও দুর্নীতির অভিযোগে টাঙ্গাইল গণপূর্ত বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী আমিনুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর বিধান অনুযায়ী এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কর্তৃক দায়ের করা মামলায় আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতে দাখিল করা চার্জশিট ২০২৫ সালের ৭ জুলাই গ্রহণ করেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন থেকেই তাকে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন।
দুদকের মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ গণপূর্ত অধিদপ্তরের ‘সেভেন স্টার প্রকৌশলী গ্রুপের সদস্য’ মো. আমিনুল ইসলামসহ সাতজনের বিরুদ্ধে ২০২০ সালের ১৯ অক্টোবর একটি অনুসন্ধান টিম গঠন করা হয়। অনুসন্ধান শেষে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর তাকে সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিশ দেওয়া হয়।
দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে আমিনুল ইসলাম প্রকৌশলী হলেও ২০১৬-১৭ করবর্ষ থেকে ২০২১-২২ করবর্ষ পর্যন্ত মাছ চাষ ও কৃষি বাবদ মোট ১ কোটি ৪ লাখ ১৪ হাজার ৭৬০ টাকা আয় দেখান। তবে এই আয়ের পক্ষে কোনো বৈধ প্রমাণ উপস্থাপন করতে না পারায় তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
দুদকের অভিযোগে আরও বলা হয়, আমিনুল ইসলাম প্রায় ৮০ লাখ ৮১ হাজার ২৩ টাকা মূল্যের জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পত্তি অসাধু উপায়ে অর্জন ও দখলে রেখেছেন। এছাড়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন, জব্দকৃত নথিপত্র, সংগৃহীত রেকর্ড এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি ও তার সহযোগীরা বিভিন্ন প্রকল্পে যথাযথভাবে কাজ না করে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন এবং এর মাধ্যমে বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
মামলাটি আদালতে আমলে নেওয়ার পর ২০২৫ সালের ৩০ জানুয়ারি আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করা হয়। কমিশনের কমিশনার (তদন্ত) মিঞা মুহাম্মদ আলি আকবর আজিজী দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় এই চার্জশিট দাখিল করেন।
মামলায় সাক্ষ্য দিয়েছেন কর কমিশনের দুই কম্পিউটার অপারেটর এম হাবিব আহমেদ ও মনিরুজ্জামান। তারা জবানবন্দীতে জানান, আমিনুল ইসলামের লিজ নেওয়া দুটি পুকুর পরিদর্শন করা হলেও পোনা, মাছের খাদ্য ও শ্রমিক খরচসংক্রান্ত কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি। তিনি ১৮০ মণ মাছ বিক্রির তথ্য দিলেও তার পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি। পাশাপাশি পুকুরগুলোতে নিয়মিত ও সঠিকভাবে চাষাবাদের প্রমাণও পাওয়া যায়নি। ভোলার লালমোহনের ধলিগৌরনগর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হেদায়েতুল ইসলাম মিন্টু এসকল সম্পদ দেখাশোনা করতেন।
বিগত দিনে আমিনুল ইসলাম গণপূর্ত অধিদপ্তরের (পিডব্লিউডি) অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। দীর্ঘ প্রায় দশ বছর কাজ করেছেন জাতীয় সংসদের ই/এম ডিভিশনে। ‘বাংলাদেশ পিডব্লিউডি ডিপ্লোমা প্রকৌশলী সমিতি’র সাবেক সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আমিনুল ইসলাম।


