তিনবছর আগে টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য পাচারের অভিযোগে শাস্তি হিসেবে রাজশাহীতে পোস্টিং হয় বাংলাদেশ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ডাক বিভাগের স্টেনোটাইপিস্ট আমিনুল ইসলামের। তৎকালীন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী মোস্তফা জব্বার নিজে এ উদ্যোগ নেন বলে জানা গেছে।
কিন্তু দমে যাবার পাত্র নন আমিনুল ইসলাম। ঢাকার বাইরে থেকে উপরি উপার্জনের উপায় কম তাই তার আবারও ঢাকায় ফেরার চেষ্টা অব্যহত থাকে। এমন পরিস্থিতিতে ২৪’র জাতীয় নির্বাচনের পর পরিবর্তন আসে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী পদে। মোস্তফা জব্বারকে সরিয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বপান জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতা হত্যাসহ দুর্নীতির একাধিক মামলায় গ্রেফতার জুনায়েদ আহমেদ পলক। আগে থেকেই পলকের ‘মানুষ’ হিসেবে পরিচিত আমিনুলের ঢাকায় ফিরতে বেগ পেতে হয়নি। কথিত আছে তাকে বদলী করে আনার জন্য সরাসরি সুপারিশ করেন প্রতিমন্ত্রী পলক।
যদিও রাজশাহীতেও কর্মের ছাপ রেখেছেন এ আমিনুল। কাজে অবহেলার কারণে করা হয় শোকজ। তার যে উত্তর তিনি ডিপার্টমেন্টে জমা দেন তা গ্রহণ করেনি ডাক বিভাগ। কারণ উত্তর সন্তোষজনক ছিলো না।
আমিনুল সব সময় নিজেকে আওয়ামী লীগের লোক বলে প্রচার প্রচারণা চালাতেন। আওয়ামী সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ডাক বিভাগে আপন বোনের চাকুরির ব্যবস্থা করেন তিনি। এছাড়া বারবার দায়িত্বে অবহেলাসহ চাকুরির শর্ত ভাঙ্গ করলেও তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া যায়নি দলীয় পরিচয়ে প্রভাব বিস্তারের কারণে। রাজশাহীতে শোকজ হলেও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি।
ডাক বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে: আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শুধুমাত্র টেন্ডার সংক্রান্ত তথ্য পাচার করে প্রচুর অর্থ-সম্পদের মালিক বনে গেছেন আমিনুল ইসলাম।
শুধু অর্থে নয় নারীতেও আসক্তির অভিযোগ রয়েছে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। ডাক বিভাগের একজন নারী সহকর্মীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে উঠেছিলো আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। তার দ্বিতীয় স্ত্রী কর্তৃপক্ষের কাছে তার বিরুদ্ধে অভিযোগও করেন। যদিও রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে সব কিছু ধামাচাপা দেন বলে অভিযোগ রয়েছে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
এই আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে নতুন করে অভিযোগ ডাক বিভাগে ৮৫৩টি পদে বড় একটি নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। যেখানে প্রভাব খাটিয়ে কিছু পদে নিজের লোক ঢুকাতে চাইছেন আমিনুল।
এসকল অভিযোগের বিষয়ে আমিনুল ইসলামের উত্তর জানতে চেয়ে ফোন করি আমরা কিন্তু তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে জানতে চেয়ে ডাক বিভাগের মহাপরিচালকের (ডিজি) পিএস মুহম্মদ জসীম উদ্দিনকে ফোন করা হলে তিনি বলেন: আগের বিষয়গুলো আমার জানা নেই। এখানে আমি মন্তব্য করতে পারবো না। তবে ডাক বিভাগের নিয়োগের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার মধ্যদিয়ে সম্পন্ন হবে। এখানে কোন একক ব্যাক্তি প্রভাব খাটিয়ে কিছু করতে পারবেন না। নিয়োগ বোর্ডে মন্ত্রণালয়ের একেজন প্রতিনিধি, পিএসসির একজন এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের একজন করে প্রতিনিধি থাকবে। বোর্ডের সিদ্ধান্তে নিয়োগ প্রক্রিয়া চূড়ান্ত হবে। তাই এখানে একক কোন ব্যাক্তি কিছু করার আছে বলে আমি মনে করি না।








