বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) অভ্যন্তরে অস্থিরতা এখন চরমে পৌঁছেছে। গত দুই দিনে চারজন পরিচালক পদত্যাগ করার পর বোর্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এর মধ্যেই গত অক্টোবরের বোর্ড নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের তদন্ত প্রতিবেদন সরকারের কাছে জমা দিয়েছে তদন্ত কমিটি। তবে চাপের মুখেও বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল পদত্যাগ করতে রাজি নন, বরং দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড়। বলছেন, ‘আমি আমার চেয়ারেই বসব।’
ক্রিকইনফো এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে।
গত অক্টোবরে অনুষ্ঠিত বিসিবি বোর্ড নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন উঠলে বিষয়টি নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। এরই প্রেক্ষিতে গত ১১ মার্চ জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ সাবেক বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানের নেতৃত্বে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, যার মূল দায়িত্ব ছিল নির্বাচনী প্রক্রিয়া যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা। সম্প্রতি তারা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিটি।
এছাড়া টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অনুপস্থিতি, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ এবং স্বজনপ্রীতির অভিযোগে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় বর্তমানে বোর্ডের ওপর চাপ বাড়িয়েছে। এ পর্যন্ত মোট ৭ জন পরিচালক বোর্ড থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তবে আমিনুল জানালেন তিনি সরবেন না।
বলেছেন, “আমি আমার চেয়ারেই বসব, এছাড়া আমার আর কী করার আছে? যদি সবাইকে যেতেও হয়, তবে সবার শেষে আমিই যাব। আমার সাথে একটি নিবেদিত ও সৎ দল আছে, তাদের নিয়ে আমি দেশের ক্রিকেটের সেবা করতে চাই।’
নিজের অভিজ্ঞতা ও আইসিসিতে কাজের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও যোগ করেন, ‘কেউই অপরিহার্য নয়। তবে আমি আইসিসিতে কাজ করা একমাত্র বাংলাদেশি। অভিজ্ঞতার কারণেই আমি আজ এই দায়িত্বে। দেশের টানে সবকিছু ছেড়ে এখানে এসেছি। পরিস্থিতি যদি অনুকূলে না থাকে তবে ভিন্ন চিন্তা করব, কিন্তু আপাতত আমি দেশের ক্রিকেটের পাশেই আছি।’
তদন্ত কমিটির মুখোমুখি না হওয়া প্রসঙ্গে তিনি জানান, সময়ের অভাবে সশরীরে উপস্থিত হতে না পারলেও লিখিত জবাব পাঠিয়েছেন। কাউন্সিলর মনোনয়নে হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করে তার দাবি, নির্বাচনের সাথে তার সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। গঠনতন্ত্র মেনে অ্যাড-হক কমিটির মাধ্যমেই নাম আসার কথা ছিল। নির্দিষ্ট কিছু জেলা ও বিভাগ থেকে পর্যাপ্ত নাম না আসায় পুনরায় চিঠি দেওয়ার প্রক্রিয়াটিতেই কেবল তার সম্পৃক্ততা ছিল।
২০২৫ সালের মে মাসে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে বিসিবির দায়িত্ব গ্রহণ করেন আমিনুল ইসলাম। শুরুতে নিজের মেয়াদকে ‘টি-টুয়েন্টি ইনিংসের মতো সংক্ষিপ্ত’ বললেও অক্টোবর নির্বাচনে তিনি পূর্ণ মেয়াদে সভাপতি নির্বাচিত হন। তবে সেই সময় সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়।







