ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের শীর্ষ নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। ঘটনায় দেশটির ক্ষমতার কেন্দ্রে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে।
আজ (১8 মার্চ) বুধবার প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, মৃত্যুর সময়কালে তিনি তিনটি বড় সংকট মোকাবেলা করছিলেন চলমান যুদ্ধ, অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ এবং পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্থবির আলোচনা। যুদ্ধের ক্ষেত্রে তিনি সংঘাত দীর্ঘায়িত করার এবং হরমুজ প্রণালী বন্ধ করার মতো পদক্ষেপের পক্ষে ছিলেন।
অর্থনৈতিক সংকট থেকে শুরু হওয়া অভ্যন্তরীণ বিক্ষোভ দ্রুত সরকারবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়, যা কঠোর দমন-পীড়নের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়। এতে হাজার হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। লারিজানির মৃত্যুর ফলে এসব গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু এখন অনিশ্চিত অবস্থায় পড়েছে এবং নতুন নেতৃত্বের ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
একই সঙ্গে নতুন শীর্ষ কর্মকর্তারাও হামলার ঝুঁকিতে রয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে ক্ষমতা আরও বেশি সামরিক বাহিনীর দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি ইঙ্গিত দিয়েছেন, শীর্ষ নেতৃত্ব অকার্যকর হলে সশস্ত্র বাহিনীকে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
স্বল্পমেয়াদে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে যুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং দেশে দমন-পীড়ন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে ধারাবাহিকভাবে শীর্ষ নেতাদের হারাতে থাকলে ইরানের মতো বৃহৎ রাষ্ট্রের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।
লারিজানি সামরিক কমান্ডার না হলেও ইরানের কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি। সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের সচিব হিসেবে তিনি যুদ্ধ, কূটনীতি এবং জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে সরাসরি যুক্ত ছিলেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাতে তার মতামত ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
লারিজানির মৃত্যু শুধু একজন নেতার ক্ষতি নয়, বরং এটি ইরানের সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।








