যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান ডোনাল্ড ট্রাম্প বা ডেমোক্র্যাট কমলা হ্যারিস কেউই কাউকে ছেড়ে কথা বলছেন না। তীব্র বাকযুদ্ধের সাথে যোগ হয়েছে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্যে তৈরি ভুয়া তথ্য। প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভুয়া সংবাদ এবং ভুয়া ছবি ও ভিডিওতে সয়লাব ইন্টারনেট জগৎ।
সত্য-মিথ্যা যাচাই করতে গিয়ে বিভ্রান্ত হচ্ছেন মার্কিন ভোটাররা। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এর প্রভাব পড়তে পারে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফলে। ট্রাম্প আর কমলা হ্যারিসের মধ্যকার তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার হাওয়া বইছে মার্কিন রাজনৈতিক অঙ্গনে। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই নির্বাচনে পরস্পরকে নিয়ে বিষেদাগার করেছেন দুই প্রার্থীই। তবে অনেকদিন যাবতই রিপাবলিকান প্রার্থী সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রিয় একটি উক্তি হচ্ছে ‘ফেইক নিউজ’।
এবারের মার্কিন নির্বাচনে আসলেই ফেইক নিউজ আর কনটেন্টের ছড়াছড়ি। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে মার্কিন অঙ্গরাজ্য নিউ হ্যাম্পশায়ারে। সেখানে প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের কণ্ঠ হুবহু নকল করে ফোনে পাঠানো হয়েছে অডিও বার্তা-যাতে ভোটদানে নিরুৎসাহিত করা হয়। নির্বাচনি প্রচার চলাকালে ট্রাম্প এআই দিয়ে তৈরি ছবি পোস্ট করেন, যেখানে দেখা যায়- প্রখ্যাত মার্কিন সঙ্গীতশিল্পী টেইলর সুইফট ট্রাম্পের জন্য প্রচারণা চালাচ্ছেন। অথচ টেইলর সুইফট প্রকাশ্যে একজন কমলা হ্যারিস সমর্থক।
গত সেপ্টেম্বরে রাশিয়ার একটি ভুয়া সংবাদমাধ্যমে ভিডিও পোস্ট করে দাবি করা হয়, ডেমোক্র্যাট প্রার্থী কমলা হ্যারিস একজনকে গাড়িচাপা দিয়েছেন। আবার সাম্প্রতিক সময়ে আদালতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিচার চলার সময় তাকে গ্রেপ্তারের ভুয়া ছবি ছড়িয়ে পড়েছিলো ইন্টারনেটে। সেই সব ছবি দেখে তার প্রতি সহানুভতিশীল হয়েছিলেন অনেকেই।
কম সময়ে বিশ্বাসযোগ্য পোস্ট তৈরিতেও ব্যবহার হচ্ছে এআই। ব্যবহারকারীর আচরণ ও সোশ্যাল মিডিয়ার অভ্যাসের সাথে খাপ খাইয়ে তৈরি করা হচ্ছে কনটেন্ট। এআই বলে দিচ্ছে ভোটারদের ভাবনা কেমন, কীভাবে প্রভাবিত করা যাবে তাকে। যা বদলে দিচ্ছে চিন্তা- হয়তো কাকে ভোট দেবেন সেই সিদ্ধান্তও।
শুধু যে সমর্থক বা শত্রুরাই এআই দিয়ে কনটেন্ট বানাচ্ছে তা কিন্তু নয়। রিপাবলিকান ও ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রচার শিবিরও সময় বাঁচাতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমতা ব্যবহার করছে। এমনকি ডোনাল্ড ট্রাম্প ও কমলা হারিসের লিখিত ভাষণেও এআই দিয়ে তৈরি অংশের উপস্থিতি পাওয়া গেছে।
তাই, এখন যখন নির্বাচন একদম দ্বারপ্রান্তে, তখন বিশ্লেষকদের আশঙ্কা এআই দিয়ে তৈরি ভুয়া কনটেন্টের পরিমাণ ভোটের দিন কয়েকগুণে বেড়ে যেতে পারে। আর এসব ভুয়া সংবাদের সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে মার্কিন নির্বাচনে ফলাফলে।








