দেশের কিংবদন্তী অভিনেতা, সংস্কৃতি অঙ্গনের চেনা মুখ আসাদুজ্জামান নূর। ৩১ অক্টোবর তার জন্মদিন। গুণী এই শিল্পীর জন্মদিনে সহকর্মী ও অনুরাগীরা সামাজিক মাধ্যমে জানাচ্ছেন শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা। নূরকে নিয়ে গুণী অভিনেতা, বিজ্ঞাপন নির্মাতা ও চিত্রশিল্পী আফজাল হোসেনও এদিন একটি দীর্ঘ পোস্ট লিখেছেন।
মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে নূরের অভিনয় তাকে বারবার ভাবিয়েছে জানিয়ে আফজাল লিখেন— “কীভাবে এত স্বাভাবিক থেকেও কেউ দুর্দান্ত অভিনয় করতে পারেন!” তিনি বলেন, নূরের কণ্ঠ আর উচ্চারণে এমন এক মাধুর্য আছে, যা “সুবাসের মতো নীরবে অনুভবকে আলিঙ্গন করে।”
“তাঁর শিল্পীসত্তার পরিচয় কারো জানা না থাকলেও মানুষটার কোমল ব্যাক্তিত্বের আকর্ষণ এড়ানো খুব সহজ নয়।” নূরের ব্যক্তিত্বে মুগ্ধ আফজাল।
বিজ্ঞাপনচিত্র নির্মাতা হিসেবে নিজের শুরুর সময়ের একটি স্মৃতি টেনে আফজাল লেখেন, যখন বহুজাতিক কোম্পানিগুলো বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন নির্মাতাদের ওপর আস্থা রাখত না, তখনই আসাদুজ্জামান নূর তাঁর ওপর ভরসা রেখে আন্তর্জাতিক একটি পণ্যের বিজ্ঞাপন তৈরির দায়িত্ব দেন। নূর তখন বলেছিলেন, “সন্মান যেনো থাকে।”
নূরকে নিয়ে আফজাল এসময় বলেন,“তিনি দেশের বড় একটা বিজ্ঞাপনী প্রতিষ্ঠানের কর্তা, আমি একই ক্ষেত্রে শক্ত ভিত্তি তৈরির জন্য নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছি- এ দুই পরিচয়ের মধ্যে অনেক দূরত্ব কিন্তু যখন ভালো কাজ করতে পারার প্রতি সন্মান দেখিয়ে কেউ একজন কারো প্রতি হাত বাড়িয়ে দেন- তা সামান্য থেকে হঠাৎ মনে রাখার মতো সম্পর্কে উন্নীত হয়।”
নাট্যজীবনে নূর ‘নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, আর আফজাল ‘ঢাকা থিয়েটার’-এর। তবু তাঁরা একে অপরের কাজের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা পোষণ করতেন। আফজাল লেখেন, “যে সব মানুষকে আমি বিশেষভাবে সন্মান করি, তাঁদের সাথে খানিকটা দূরত্ব থাকুক— এটা চাই। কিন্তু কেউ চলে গেলে মনে হয়, তুমি তো পারতে, আরো কাছের হতে।”
শেষে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি লিখেন, “নূর ভাই বেঁচে আছেন। সে বেঁচে থাকা মৃত্যুর চেয়ে একটু ভালো। নূর ভাই ফিরবেন, আরও কাছের হয়ে ওঠার সুযোগটা পাবো, এমন আশায় রয়েছি। শুভ জন্মদিন আসাদুজ্জামান নূর, নূর ভাই।”
সত্তর ও আশির দশকের নাটক ও মঞ্চে নিজের স্বকীয় অভিনয় দিয়ে দর্শকের হৃদয় জয় করেছিলেন আসাদুজ্জামান নূর। ‘বাকের ভাই’ চরিত্রের মধ্য দিয়ে তিনি এক প্রজন্মের স্মৃতিতে অমর হয়ে ওঠেন।
অভিনয়ের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন তিনি। নীলফামারী-২ আসন থেকে পাঁচবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর আওয়ামী লীগের নেতাদের ধারাবাহিক গ্রেপ্তারের মধ্যে ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ঢাকায় নিজ বাসা থেকে গ্রেপ্তার হন নূর। এক বছরের বেশী সময় ধরে তিনি কারাবন্দি রয়েছেন।








