স্ত্রী ও সন্তানদের নিয়ে এখন বছরের বেশির ভাগ সময় যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসে থাকেন ঢাকাই সিনেমার অন্যতম দাপুটে অভিনেতা মিশা সওদাগর। তাই বলে সিনেমা থেকে বিরতি নিয়েছেন, এমনটা নয়। নিয়মিত অভিনয় চালিয়ে যাচ্ছেন! খল অভিনেতা হিসেবে এখনো তিনি তালিকার সবার উপরে! সবশেষ ঈদে মুক্তি পাওয়া সবচেয়ে আলোচিত ছবি ‘বরবাদ’-এও দেখা গেছে তাকে।
প্রথমবারে মতো সিনেমায় শাকিব খানের বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছেন মিশা। এমন চ্যালেঞ্জিং চরিত্রটি করেও তুমুল প্রশংসা পাচ্ছেন দর্শকের। বর্তমানে এই অভিনেতা স্ত্রী সন্তান নিয়ে আছেন আমেরিকার ডালাস শহরে। সদ্যই সেখানে মুক্তি পেয়েছে ‘বরবাদ’। সপরিবারে প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখলেন এই তারকা।
একটি ভিডিওতে দেখা যায়, ‘বরবাদ’ দেখে বের হয়ে ক্যামেরার মুখোমুখি হন মিশা। এসময় অভিনেতা তার দুই ছেলেকে ডেকে এনে ‘বরবাদ’ সম্পর্কে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইছেন।
এরমধ্যে ছোট ছেলে ওয়াইশ কার্নি হাসান বলেন, ‘বরবাদ’ দেখে একদমই মনে হয়নি যে এটি বাংলাদেশের ছবি। স্পেশালি আমাদের নায়ক শাকিব খানকে খুবই ভালো লেগেছে, আমার বাবার অভিনয়ও দারুণ লেগেছে।
বড়ছেলে হাসান মোহম্মদ ওয়ালিদ বলেন,‘বরবাদ’-এর জন্য অনেক দিন ধরেই অপেক্ষা করছি। নিউ ইয়র্কের পর অবশেষে ডালাসে এসেছে। এতোদিন অপেক্ষার পর আজকে ‘বরবাদ’ দেখে মোর দ্যান সেটিসফাইড! কিছুদিন আগে শাকিব আঙ্কেলের আরেকটা ছবি আসছিলো, ‘তুফান’- ওইটাও ফ্যান্টাস্টিক। কিন্তু ‘বরবাদ’ আরো দারুণ। সবাইকে বলি, ‘বরবাদ’ হলে এসে দেখুন।
এসময় ওয়ালিদ বলেন, এটা সব শ্রেণির দর্শকের ছবি। ইন্টেলেকচুয়াল থেকে শুরু করে যারা কলেজপড়ুয়া- বলতে গেলে এটি আমজনতার ছবি। বাংলাদেশি ফিল্ম, কিন্তু পুরোপুরি আমেরিকান স্ট্যান্ডার্ড!
পরে সিনেমাটি নিয়ে কথা বলেন মিশা। তিনি বলেন, যে কোনো ছবির পৃষ্টপোষকতা খুব দরকার। আর পৃষ্টপোষক হচ্ছেন দর্শক। নিজে দেখবেন, এবং অন্যকে দেখতে উৎসাহিত করবেন। তবেই এরকম বড় আয়োজনের ছবি বেশী বেশী আসবে। প্রযোজক লগ্নী করতে ভরসা পাবে।
এক মাস ধরে দেশে বিদেশের প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের ঢল দেখে উচ্ছ্বসিত অভিনেতা মিশা। সিনেমায় তাকে দেখা গেছে শাকিব খানের বাবার চরিত্রে। ছবিটি সব মহলে ভালোবাসা পাওয়ায় এই অভিনেতা বলেন, আমি আগেও বলেছি, বরবাদ বাংলাদেশি ছবি, কিন্তু এটি তৈরী করা হয়েছে ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ড-এ। ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যান্ডার্ডে একটি সিনেমা করতে হলে প্রচুর টাকার প্রয়োজন হয়। বিজিএম করতে হয় স্ট্রংলি, সাউন্ড করতে হয়; আমরা পুনেতে গিয়ে শুটিং করেছি পাহাড়ের উপর। সিনেমায় আমার যেটা বাসা, সেটা বিজয় মালিয়ার বাংলো! এরকম বিভিন্ন দারুণ লোকেশন প্রয়োজন। যে কাপে আমি চা খেয়েছি, সেটার দাম হলো ২০ হাজার রুপি! যে পরিমাণ টাকা প্রযোজক খরচ করেছেন, আমি এতো সাহসী প্রযোজক এখন পর্যন্ত দেখিনি।
মিশা বলেন, ‘বরবাদ’ সিনেমাটি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বাজেটের সিনেমা। কিন্তু গতকাল একটা খবর শুনেছি, সিনেমাটি নাকি পাইরেসি হয়েছে। যারা এটার সাথে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করা উচিত। এরআগেও কমার্শিয়াল সিনেমায় এরকম অবস্থা তৈরী হয়েছিলো, চলচ্চিত্রকে বিনষ্ট করে দিয়ে গেছে। পাইরেসিকে যদি এখনই ঠেকানো না যায়, তাহলে চলচ্চিত্রে ‘বরবাদ’-এর প্রযোজকের মতো একটা আজিম ভাই, শাহরিন আপু আসবে না।
এসময় তিনি ঈদে মুক্তি পাওয়া এবং দর্শকপ্রিয়তা পাওয়া দাগি, জংলি এবং চক্কর ছবিগুলোকেও অভিনন্দন ও শুভ কামনা জানান।








