নেত্রকোনার মদনে শংকর দাস নামের এক ভুয়া চিকিৎসককে আটক করা হয়েছে। তিনি নিজের নাম–পরিচয় গোপন করে সাধন কুমার মণ্ডল নামে এক চিকিৎসকের নাম, পরিচয়, সনদ ও রেজিস্ট্রেশন ব্যবহার করে দুই মাস ধরে রোগী দেখছিলেন।
জানা গেছে, সাধন কুমার মণ্ডল একজন এমবিবিএস (মেডিসিন) সিএমইউ ( আল্ট্রা) বিএমডিসি ও মেডিসিন, মা ও শিশু ,চর্ম, যৌন রোগে অভিজ্ঞ ডাক্তার। বিএমডিসির-এ ১১৩০৯৯ নং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার তার। গত দুই মাস ধরে সাধন কুমার মণ্ডলের নামে শংকর দাস নেত্রকোনার মদন উপজেলার স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখছেন।
শনিবার ৪ মে অভিযান চালিয়ে ভুয়া চিকিৎসক শংকর দাসকে আটক করেছে মদন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. শাহ আলম মিয়া। বর্তমানে ভুয়া চিকিৎসক শংকর দাসকে পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছে। অভিযুক্ত ভুয়া চিকিৎসক শংকর দাসের বাড়ি টাঙ্গাইলের ধনবাড়ি উপজেলায়। তার পিতার নাম সুমেশ দাস।সে একটি মেডিকেল কলেজের ছাত্র বলে জানা গেছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাস আগে স্বদেশ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের মালিক পক্ষের সাথে যোগাযোগ করে মদন উপজেলায় আসেন শংকর দাস। তখন সে নিজেকে ডাক্তার সাধন কুমার মণ্ডল বলে পরিচয় দেন এবং বিএমডিসির-এ ১১৩০৯৯ নং রেজিস্ট্রেশন নাম্বার তার বলে তাদের জানান। পরে তিনি স্বদেশ ডায়াগনষ্টিক সেন্টারে নিয়মিত রোগী দেখা শুরু করেন। এ পর্যন্ত তিনি ৩৩৫ জন রোগীকে চিকিৎসা দিয়েছেন। কিন্তু শুক্রবার রাতে বিএমডিসির-এ ১১৩০৯৯ নং রেজিস্ট্রেশন নাম্বারে আসল ডাক্তার সাধন কুমার মণ্ডল বিষয়টি মদন উপজেলা প্রশাসনকে জানান। পরে অভিযান চালিয়ে প্রতারক শংকর দাসকে আটক করা হয়।
ভুয়া ডাক্তার শংকর দাস জানান, আমি মেডিকেল কলেজের ছাত্র। আমার টাকার সমস্যা ছিল তাই ভুয়া পদবি ও ঠিকানা ব্যবহার করে এমন কাজ করেছি। স্বদেশ ডায়াগনস্টিক সেন্টার মালিক আব্দুল কাইয়ুম জানান, ডাক্তার সাধন কুমার মণ্ডলের পরিচয় দিয়ে আমার ওখানে তিনি রোগী দেখেছেন। আজ জানতে পারলাম সে একজন ভুয়া ডাক্তার এবং প্রতারক। আমরা তার প্রতারণার শিকার হয়েছি।
মদন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাক্তার তায়েব হোসেন জানান, আটক হওয়া ব্যক্তি কোন চিকিৎসক নন। সে মূলত একজন প্রতারক। তার কথায় বিষয়টি প্রমাণিত। মদন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) উজ্জ্বল কান্তি সরকার জানান, ডাক্তার সাধন কুমার মণ্ডল চট্টগ্রাম থেকে মদনের উদ্দেশে রওনা করেছেন। প্রতারক শংকর দাসকে আটক করা হয়েছে। প্রকৃত ডাক্তার সাধন কুমারের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।








