চার বছর পর আবারও বেশ কয়েকটি দাবি নিয়ে আন্দোলনে নেমেছে ভারতীয় একাধিক কৃষক সংগঠন। দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ‘দিল্লী চলো’ আন্দোলনের ডাক দিয়েছে সংগঠনগুলো।
মঙ্গলাবার ১৩ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃষক আন্দোলনের অন্যতম দাবি কৃষি সহায়ক মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় সরকারের উপর চাপ তৈরি করা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২০ সালে এই প্রসঙ্গে আইন প্রণয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। কিন্তু সেই বিষয়ে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি কেন্দ্রীয় সরকার। পাশাপাশি ১৬ ফেব্রুয়ারি আন্দোলনকারীরা ডাক দিয়েছেন ভারত বনধের।
কৃষকদের দাবি:
আন্দোনলকারী কৃষক সংগঠনগুলো জানায়, ২০২০ সালে কৃষির ন্যূনতম সহায়ক মূল্য নির্ধারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকার। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও সরকার এ ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ নেয়নি। এর ফলে, চরম সমস্যায় পড়েছেন কৃষকরা। এবারও তাদের দাবিগুলোর মধ্যে কৃষি সহায়ক মূল্য নির্ধারণের উপর দেওয়া হয়েছে জোর। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট আইন প্রণয়নেরও দাবি করছে তারা।
এছাড়াও বিদ্যুৎ আইন-২০২০ বাতিল, কৃষিঋণ মুকুব, লখিমপুর খেরিতে কৃষক হত্যাকাণ্ডের মূল ষড়যন্ত্রকারী কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী অজয় মিশ্র টেনির শাস্তিরও দাবি করেছে কৃষক সংগঠনগুলো। পাশপাশি নিহত কৃষকদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবিও জানানো হয়।
চার বছর আগে আন্দোলনের সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারী কৃষকদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। সেই মামলাগুলো প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও, সরকার কথা রাখেনি বলে দাবি করছে বর্তমান আন্দোলনরত কৃষকরা। তাদের দাবি, অবিলম্বে ওই সকল মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, চার বছর আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনে নরেন্দ্র মোদী সরকার ব্যর্থ বলে দাবি করেছেন সম্মিলিত কিষাণ মোর্চার নেতা জগজিৎ সিং ডাল্লেওয়াল এবং কিষাণ মজদুর সংগ্রাম কমিটির সদস্য সারওয়ান সিং। এখন আবারও সরকারের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা। কৃষিঋণ মুকুব এবং স্বামীনাথ কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকারি সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন কৃষক নেতারা।








