এই খবরটি পডকাস্টে শুনুনঃ
ইব্রাহিম জাদরান ও রাহমানুল্লাহ গুরবাজের রেকর্ড উদ্বোধনী জুটিতে ১৮৪ রানের সংগ্রহ পায় আফগানিস্তান। রান তাড়ায় নেমে ২০১৯ সালে টি-টুয়েন্টি খেলার মর্যাদা পাওয়া দলটি দাঁড়াতেই পারেনি আফগান বোলারদের সামনে। গুটিয়ে যায় পঞ্চাশ পেরিয়ে। ১২৫ রানের বিশাল ব্যবধানে হার নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা আফ্রিকার দেশটিকে।
গায়ানার প্রভিডেন্স ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার টসে জিতে আফগানদের ব্যাটিংয়ে পাঠান উগান্ডা অধিনায়ক ব্রায়ান মাসাবা। নির্ধারিত ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানে পৌঁছায় রশিদ খানের দল। জবাবে ১৬ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে উগান্ডা থামে ৫৮ রানে। বিশ্বকাপে এটি আফগানিস্তানের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানের ব্যবধানে জয়। আগেরটি ছিল ২০২১ সালের বিশ্বকাপে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ১৩০ রানে জিতেছিল আফগানিস্তান।
১৮৪ রানের জবাবে শুরুটা ভালো হয়নি উগান্ডার। ৮ রানে টপঅর্ডারের তিন ব্যাটারের মধ্যে রনক প্যাটেল ও সিমন সেসাজি দুজনেই আউট হন নামের পাশে ৪ রান যোগ করে । শূন্য রানে ফিরে যান রজার মুকাসা। সব মিলিয়ে পাওয়া প্লে-তে ২১ রান তুলতেই ৫ উইকেট হারায় তারা।
উগান্ডের হয়ে দুই অংক পেরোনো রান আসে কেবল রিয়াজত আলি শাহ (১১) ও রবিনসন ওবুয়ার (১৪) ব্যাট থেকে। বাকি সবার নামের পাশে থাকে সিঙ্গেল ডিজিট। আর দুই অংকের ঘর পেরোতে পারেনি। শেষপর্যন্ত ৪ ওভার বাকি থাকতেই ৫৮ রানে গুটিয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে এটি চতুর্থ সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ। ২০১৪ বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৩৯ রানে অলআউট হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। যা সর্বনিম্ন সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটের ক্রিকেটে।
আফগানদের হয়ে ৪ ওভার বল বলে কেবল ৯ রান দেন পেসার ফারুকি। ২.২৫ ইকোনোমিতে একাই নেন ৫ উইকেট। এছাড়া দুটি করে উইকেট নেন নাভিন-উল-হক ও রশিদ খান। একটি উইকেট নিয়েছেন মুজিব উর রহমান।
আর আগে ব্যাট হাতে শুরুটা দারুণ করে আফগানিস্তান। রাহমানুল্লাহ গুরবাজ ও ইব্রাহিম জাদরানের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে কোনো উইকেট না হারিয়ে পাওয়ার প্লেতে আসে ৬৬ রান। ২৮ বলে টি-টুয়েন্টি ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি তুলে নেন গুরবাজ। জাদরানের ক্যারিয়ারের সপ্তম ফিফটি আসে ৩৪ বলে।
ওপেনিং জুটিতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৫৪ রান যোগ করে থামেন গুরবাজ-জাদরান। ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ডটি গড়ে রেখেছেন দুই ইংলিশ ওপেনার অ্যালেক্স হেলস ও জস বাটলার, দুজনে অবিচ্ছিন্ন ১৭০ রানের জুটি গড়েন সেদিন।
চারটি করে চার ও ছক্কা মেরে গুরবাজ আউট হন ৪৫ বলে ৭৬ রান করে। কিছুসময় পর ৯ চার ও এক ছয়ে ৪৬ বলে ৭০ রান করে আউট হন জাদরান।
শেষদিকে উগান্ডার নিয়ন্ত্রিত বোলিং মেলে। ধস নামে আফগান ব্যাটিংয়ে। একে একে বিদায় নেন নাজিবুল্লাহ জাদরান (২), মোহাম্মদ নবি (১১) ও আজমাতুল্লাহ ওমরজাই (৫)।
শেষ ৫ ওভারে উগান্ডা দিয়েছে মাত্র ২৫ রান। ১৪ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ১৫৪ রান তোলা আফগানিস্তান ২০ ওভার শেষে তাই দুইশ ছুঁতে পারেনি।







