বুলাওয়েতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের টেস্ট ইতিহাসের সর্বোচ্চ সংগ্রহ গড়েছে জিম্বাবুয়ে। তিন সেঞ্চুরিতে প্রথম ইনিংসে স্বাগতিকদের ৫৮৬ রানের জবাবে আফগানিস্তানও গড়ে তুলেছে শক্ত প্রতিরোধ। কেবল দুই উইকেট হারিয়ে পৌঁছে গেছে ৪২৫ রানে। প্রথম ইনিংসে ১৬১ রানে পিছিয়ে সফরকারী দল। ম্যাচজুড়ে হয়েছে রেকর্ডের ছড়াছড়ি। রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি সারাদিন ব্যাট করে অবিচ্ছিন্ন জুটিতে ৩৬১ রান তুলেছেন।
১৪৭ বছরের টেস্ট ইতিহাসে কেবল ২৬ বার কোনো উইকেট না হারিয়ে সারাদিন কাটালেন ব্যাটাররা। এই কীর্তি সবশেষ গড়েছেন দুই আফগান রহমত শাহ ও হাশমতউল্লাহ শহীদি, শনিবার সারাদিনে ৯৫ ওভার টিকে ছিলেন তারা। উইকেট না পড়ার আরেকটি রেকর্ড হয়েছে, সবশেষ ২০১৯ সালে ইংল্যান্ড-ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্রিজটাউন টেস্টে তৃতীয় দিনে দুদল ব্যাটিং করলেও বোলাররা নিতে পারেননি কোনো উইকেট। ৩৪৪ রান উঠেছিল সেদিন।
২ উইকেটে ৯৫ রানে বুলাওয়েতে শনিবার তৃতীয় দিনের খেলা শুরু করেছিল আফগানিস্তান। দিন শেষে রান ২ উইকেটে ৪২৫। ৪৯ রানে দিন শুরু করা রহমত শাহ অপরাজিত আছেন ডাবল সেঞ্চুরি করে, আফগানদের টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চের রেকর্ড ২৩১ রান করে। ২৩টি চার ও ৩টি ছক্কায় ৪১৬ বলে ইনিংস খেলেছেন। ৩৬১ রানের অবিচ্ছিন্ন তৃতীয় উইকেট জুটিতে রহমতের সঙ্গী অধিনায়ক শহীদি, অপরাজিত থেকে ২৭৬ বলে ১৪১ রান করেছেন তিনি। ১৬ চারে ইনিংস সাজিয়েছেন।
আফগানিস্তানের হয়ে টেস্টে ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস খেলার পথে ভাগ্যের ছোঁয়াও পেয়েছেন রহমত। জিম্বাবুইয়ানরা চারবার তার ক্যাচ ছেড়েছেন। তাতে শহীদির ২০০ রানের রেকর্ড পেরিয়েছেন রহমত। ২০২১ সালে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই ২০০ রানে অপরাজিত ছিলেন শহীদি। শহীদির এদিনের অপরাজিত ১৪১ রানের ইনিংসটি আফগানদের টেস্ট ইতিহাসে চতুর্থ সর্বোচ্চ। তৃতীয় সর্বোচ্চ ১৬৪ রানের ইনিংস আসগর আফগান খেলেছিলেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই।
রেকর্ড হয়েছে জুটিতেও। ২০২১ সালে আবুধাবিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে আসগর আফগান ও হাশমতউল্লাহ শহীদি চতুর্থ উইকেটে যোগ করেছিলেন ৩০৭ রান। টেস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে শহীদি-রহমতের ৩৬১ রানের চেয়ে বড় জুটি আছে শুধু একটিই। ২০০৪ সালে বুলাওয়েতেই শ্রীলঙ্কার মারভান আতাপাত্তু ও কুমার সাঙ্গাকারা দ্বিতীয় উইকেটে যোগ করেছিলেন ৪৩৮ রান।







