মেয়েদের এশিয়ান কাপে জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানান ইরানের ৫ নারী ফুটবলার। যাদের রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। ইরানের গণমাধ্যমে তাদের বিশ্বাসঘাতক বলা হয়েছে, এমনকি দেশে ফিরলে জীবনাশের হুমকিও ছিল। এজন্য রাজনৈতিক আশ্রয় দিতে অস্ট্রেলিয়া সরকারকে অনুরোধ করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ট্রাম্পের আহ্বানে সাড়া দিয়ে দ্রুত ওই পাঁচ ফুটবলারকে রাজনৈতিক আশ্রয় দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া সরকার। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক নিশ্চিত করেছেন। ইরান জাতীয় দলের সেই তারকারা হলেন- অধিনায়ক-ফরোয়ার্ড জাহরা ঘনবাড়ি, ডিফেন্ডার ফাতেমেহ পাসন্দিদেহ ও আতেফেহ রামাজানজাদেহ, মিডফিল্ডার জাহরা সরবালী এবং মোনা হামুদি।
ইরানের বর্তমান রাষ্ট্রকাঠামো ও শাসনকাঠামোর জেরে তাদের নীরব প্রতিবাদ ছিল মাঠে নেমে জাতীয় সংগীত না গাওয়া। দেশের যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং দীর্ঘ শাসন ব্যবস্থার প্রতিবাদে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিলেন তারা, খবর বিশ্বগণমাধ্যমে।
গত ২ মার্চ সাউথ কোরিয়ার বিপক্ষে টুর্নামেন্টে প্রথম ম্যাচ শুরুর আগে ইরানের জাতীয় সংগীত বাজানোর সময় ওই পাঁচ ফুটবলার নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। যে কারণে তারা ইরানের কট্টরপন্থীদের সমালোচনা ও তোপের মুখে পড়েন। ২০২২ সালে এশিয়ানে অভিষেক হওয়া ইরানের এটি ছিল দ্বিতীয় আসর। ‘এ’ গ্রুপ সাউথ কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং ফিলিপিন্সের বিপক্ষে হেরে আসর থেকে ছিটকে পড়েন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটির প্রতিনিধিরা।
ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় বিপর্যস্ত ইরানের দলটির যখন দেশে ফেরার পালা, কুইন্সল্যান্ডের গোল্ড কোস্টে তখন টিম হোটেলে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। খেলোয়াড়রা ফেরার জন্য বিমানবন্দরে যেতে বাসে ওঠার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, সেখানে ইরানি সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীরা জড়ো হন। তারা কিছুক্ষণের জন্য টিম বাস আটকে রাখেন, খেলোয়াড়দের সাহায্যের জন্য ‘আমাদের মেয়েদের বাঁচাও’ লেখা প্লাকার্ড দেখান।
অবশ্য আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, জাতীয় সংগীত গাইতে অস্বীকৃতি জানানো খেলোয়াড়রা যদি ইরানে ফিরে যান, তাদের মৃত্যুর ঝুঁকি থাকতে পারে। অস্ট্রেলিয়া যদি ব্যবস্থা না নেয় তাহলে তিনিই হস্তক্ষেপ করবেন বলেছিলেন।
পরে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানান, ইরান দলের পাঁচ খেলোয়াড়কে আশ্রয় দেয়া হয়েছে। লেখেন, ‘গতরাতে আমি ইরানের নারী ফুটবল দলের পাঁচজনকে জানাতে পেরেছি যে, তারা অস্ট্রেলিয়ায় নিরাপদে থাকতে পারবেন এবং এখানে তাদের একটি বাড়ি থাকবে।’
বিষয়টি নিয়ে ফিফা বিবৃতিতে জানিয়েছিল, খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা তাদের অগ্রাধিকার এবং সংশ্লিষ্ট অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ ও ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে সংস্থাটি।


