ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) তহবিল সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে জনমনে সৃষ্ট বিভ্রান্তি দূর করতে ব্যাখ্যা দিয়েছেন বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেছেন, সাবেক প্রশাসক দায়িত্ব হস্তান্তরের সময় কর্পোরেশনের ২৬টি ব্যাংক হিসাব মিলিয়ে ১,২৬০ কোটি ১৫ লাখ ৫১ হাজার ৩১১ টাকা থাকার যে দাবি করেছেন, সেটি প্রকৃত চিত্র নয়।
ফেসবুক পেজে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান তিনি।
প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান জানান, ডিএনসিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা ও বিভিন্ন ঠিকাদারি বিল পরিশোধ করা হয় কর্পোরেশনের সাধারণ তহবিল থেকে। তিনি বলেন, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণের সময় ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলের ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা, যা মূলত আপদকালীন দায় মেটানোর জন্য সংরক্ষিত।
তিনি আরও জানান, ২০২৩-২৪ অর্থবছর শেষে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল ৫৯৭ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন তহবিলে ফিক্সড ডিপোজিট ছিল ৮২৫ কোটি টাকা। ১ জুলাই ২০২৪ থেকে ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ১,১৭৮ কোটি টাকা। ফলে ওই সময় মোট ক্যাশ ব্যালেন্স দাঁড়ায় ১,৭৭৫ কোটি টাকা।
প্রশাসকের ভাষ্য অনুযায়ী, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে দায়িত্ব গ্রহণের পর উচ্চাভিলাষী বাজেট প্রণয়ন করে বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করেন এবং ৩০ জুন ২০২৫ পর্যন্ত মোট ১,৪৩৯ কোটি টাকা ব্যয় করেন। ফলে ১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ক্যাশ স্থিতি নেমে আসে ৩৩৬ কোটিতে।
পরবর্তী সময়ে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয় ৮২০ কোটি টাকা। এতে ৩০ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে ক্যাশ স্থিতি দাঁড়ায় ১,১৫৬ কোটি টাকা। তবে প্রশাসকের দাবি, সাবেক প্রশাসক পুনরায় বিভিন্ন অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করে ১ জুলাই ২০২৫ থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত অল্প সময়ের মধ্যেই ১,১৩১ কোটি টাকা ব্যয় করেন।
ফলে বর্তমান প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান দায়িত্ব গ্রহণের দিন, অর্থাৎ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে ডিএনসিসির সাধারণ তহবিলে ক্যাশ স্থিতি ছিল মাত্র ২৫ কোটি টাকা, যা কর্পোরেশনের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। পাশাপাশি বিভিন্ন তহবিলে পূর্ব থেকে সংরক্ষিত ফিক্সড ডিপোজিট হিসেবে ৮২৫ কোটি টাকা ছিল।
প্রশাসকের অভিযোগ, সাবেক প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ ফিক্সড ডিপোজিটের ৮২৫ কোটি টাকা এবং কর্পোরেশনের বিভিন্ন নির্দিষ্ট তহবিল—যেমন জামানত তহবিল, পেনশন তহবিল, শিক্ষা তহবিল ও জিপিএফ (জেনারেল প্রভিডেন্ট ফান্ড)—এর চলতি ও সঞ্চয়ী হিসাবের প্রায় ৪৩৫ কোটি টাকা একত্র করে মোট ১,২৬০ কোটি টাকার একটি হিসাব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করেন। এর মাধ্যমে নগরবাসীকে বিভ্রান্ত করা এবং বর্তমান প্রশাসনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপচেষ্টা করা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
তিনি আরও বলেন, সাবেক প্রশাসক শেষ কর্মদিবস ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে সাধারণ তহবিলের স্থিতি বিবেচনায় না নিয়ে এবং প্রকল্পগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হয়েছে কিনা তা যাচাই না করেই তড়িঘড়ি করে ৩৬টি বিলের নথি অনুমোদন করে যান। এসব বিলের বিপরীতে প্রায় ৪২ কোটি টাকা বিভিন্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাওয়ার কথা রয়েছে।
বর্তমানে এসব নথি যাচাই-বাছাইয়ের প্রক্রিয়া চলছে বলে জানান ডিএনসিসি প্রশাসক। তিনি বলেন, কর্পোরেশনের আর্থিক অবস্থার বিষয়ে সঠিক তথ্য জনসম্মুখে তুলে ধরা জরুরি। সেই উদ্দেশ্যেই বিষয়টি পরিষ্কার করতে এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।

