‘আয়ের উৎস যেখানে সীমিত, ব্যয়ের খাত প্রসারিত হচ্ছে ক্রমাগত। আর এই পরিস্থিতির মুখ্যসহায়ক কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ভৌগোলিক অবস্থানগত দিকের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটাবস্থা। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে স্বল্প আয়ের পরিবারের সন্তানদের জীবনে নেমে এসেছে কঠিন দুরাবস্থা।’- এমনই হতাশাব্যাঞ্জক স্বরে কৃষক পরিবারে বেড়ে উঠা তরুণী ফাতিমা বর্ণনা করছিলেন তার জীবনের গল্প।
অবস্থানগত কারণেই ইবির সাথে যেহেতু কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ ২টি জেলা শহরের দূরত্ব অনেক, সেহেতু যাতায়াত সুবিধার স্বার্থে শিক্ষার্থীদের বেছে নিতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল নয়তো পাশ্ববর্তী এলাকার ছাত্রাবাস। তবে হলের সিটের সংকটাবস্থার কারণে শতভাগ শিক্ষার্থীকে আবাসন নিশ্চিত করাও বর্তমানে ইবি প্রশাসনের পক্ষে সম্ভবপর নয়৷ তাই একপ্রকার বাধ্য হয়েই শিক্ষার্থীদের অবস্থান করতে হচ্ছে ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী এলাকার মেসগুলোতে।
তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তাদের এই অসহায়ত্বের সুযোগের সদ ব্যবহার করে মেস মালিকেরা অনিয়ন্ত্রিত হারে অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি করছে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো। ফলে মেস বা বাসা ভাড়া প্রদানে শিক্ষার্থীদের গুনতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
পাশ্ববর্তী ছাত্রী মেসে অবস্থানরত আশরাফুল নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা একপ্রকার বাধ্য হয়েই মেসগুলোতে থাকি। এসব মেসে বিশেষ কোনো সুযোগ সুবিধা নেই তবুও বাড়তি অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল’সহ দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ মেটাতেই যেখানে আমাদের হিমশিম অবস্থা সেখানে বছরের শুরুতে মেস বা বাসার মালিকেরা এলাকাভেদে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করে থাকে।
তামান্না নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, কোনো কারণ ছাড়া মালিকেরা কিছুদিন পর পরই ভাড়া বৃদ্ধি করে। দিনে ২৪ ঘন্টার ৫ থেকে ৬ ঘন্টাই বিদ্যুৎ থাকে না এসব এলাকায়। পানি সরবরাহের অবস্থাও নাজেহাল। এরপরও পানির বিল, বিদ্যুৎ বিল, ইন্টারনেট সেবাসহ সব কিছুরই আলাদা আলাদা খাতে অর্থ প্রদান করতে হয়। এমনকি এসব মেসগুলোতে ছাত্রীদের নিরাপত্তারও যথেষ্ট শঙ্কা রয়েছে।
মাইশা নামের আরেকজন শিক্ষার্থী বলেন, ইবির অবস্থানগত দিকের কারণেই অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে সম্পূর্ণভাবে পরিবারের উপর নির্ভরশীল থাকতে হয়। এখানে টিউশন কিংবা খণ্ডকালীন চাকরিরও তেমন কোনো উৎস নেই। যাতে আমাদের অতিরিক্ত খরচ নির্বাহের একটি সাপোর্ট তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নিজ উদ্যোগে নতুন কিছু করাটাও ইবির প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং। তবে কিছু শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস কেন্দ্রিক ছোট পরিসরে হলেও ভালো কিছু করার আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে যা সত্যি প্রশংসনীয়। তবে এমন উদ্যোক্তার সংখ্যা বাড়াতে হলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকেও শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়াতে হবে। শিক্ষার্থীদের প্রতিবন্ধকতার জায়গাগুলো চিহ্নিত করে সে অনুযায়ী কাজ করতে হবে।
তবে ভাড়া বাড়ানোর ক্ষেত্রে নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, গৃহঋণের সুদ, রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বৃদ্ধিকে দায়ী করছেন স্থানীয় মেস বা বাসা মালিকেরা।
তারা বলছেন, আমাদের ব্যয় বাড়লেও আয় বাড়ছে না। বর্তমানে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে হু হু গতিতে। আমাদের নিজেদেরও পরিবার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। এছাড়াও মেস বা বাসাগুলোর ভাড়ার সঙ্গে পরিষেবার খরচও যুক্ত থাকে। সরকার যখন পরিষেবার খরচ বাড়িয়ে দেয়, তখন আমাদেরকে বাধ্য হয়ে সেটাকে ভাড়ার টাকার সাথে সমন্বয় করতে হয়।
ইবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহ বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ বিষয়টি দেখছে, ইতোমধ্যে তারা কাজ শুরু করেছে। শীঘ্রই ক্যাম্পাস পাশ্ববর্তী সব মেস মালিকদের নিয়ে একটি আলোচনা বৈঠক করা হবে সেখানে অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে কথা বলার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জীবনমায়া নিয়েও আলোচনা করা হবে।








