শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারসহ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শিক্ষাখাতে যেসব অনিয়ম, দুর্নীতি ও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে, সেগুলো নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, শিক্ষা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে কাজের মূল্যায়নের ভিত্তিতে পুরস্কার ও শাস্তির ব্যবস্থা চালু করা হবে। বদলি বাণিজ্য ঠেকাতে অটোমেশনভিত্তিক অ্যাপ চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে তদবির ছাড়াই ফলাফল ও যোগ্যতার ভিত্তিতে বদলি নিশ্চিত করা হবে।
মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে ও নির্বাচনের দিনেও যেসব বদলি হয়েছে, সেগুলোতেও কোনো অসঙ্গতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে। নকল প্রতিরোধ প্রসঙ্গে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, কার্যকর ব্যবস্থাপনায় আলাদা অভিযানের প্রয়োজন হবে না।
এনটিআরসিএর কার্যক্রম মনিটরিংয়ে পৃথক সেল গঠনের কথাও জানান শিক্ষামন্ত্রী। নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান অনুমোদনের ক্ষেত্রেও যাচাই-বাছাই জোরদার করা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
পাঠ্যবই বিতরণে বিঘ্ন ঘটবে না বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি। পাশাপাশি কোথাও বদলি বাণিজ্যের অভিযোগ পেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
পরে সচিবালয়ে আরেক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেন, আজ আমরা দিক-নির্দেশনা দিলাম। বাস্তবায়নের জন্য তিন ধাপের টাইমলাইন ধরে এগোবো। প্রথম ধাপ হবে এখন থেকে ঈদুল ফিতর পর্যন্ত। এ ধাপে ‘বাজেট ও প্রকল্প বাস্তবায়নের ডায়াগনস্টিক রিভিউ’; ‘উন্নয়ন বাজেটের ৫৩ শতাংশ ফেরত যাওয়ার কারণভিত্তিক রুট-কজ অ্যানালাইসিস’ এবং ‘শিক্ষকদের ট্যাব দেওয়া, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম ও ভাষা শিক্ষার পাইলট ডিজাইন’ করা হবে।
দ্বিতীয় ঘোষণা অনুযায়ী শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দ্বিতীয় ধাপ শুরু হবে ঈদুল ফিতরের পর। ববি হাজ্জাজ বলেন, দ্বিতীয় ধাপে আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মতি নিয়ে জাতীয় শিক্ষা রোডম্যাপ ঘোষণা করবো। সেটা মন্ত্রণালয়ভিত্তিক, বিভাগভিত্তিক ও পরিমাপযোগ্য সূচকসহ।
তৃতীয় ধাপে হবে ১২ থেকে ৩৬ মাসের; অর্থাৎ এক বছর থেকে তিন বছর। এ ধাপের কাজের বর্ণনা তুলে ধরে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী বলেন, তৃতীয় ধাপে আমরা পরীক্ষা ও মূল্যায়ন বড় টেকনিক্যাল রি-ফর্ম করবো। কারিগরি, সাধারণ এবং মাদরাসা শিক্ষায় সেতুবন্ধন করা হবে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণা ও ইনোভেশন গ্র্যান্ট স্কেল আপ করা হবে।








