সাবেক সেনা নিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় শীর্ষ রাজনীতিকদের নির্যাতনে তখনকার সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর সংশ্লিষ্টতা ‘তদন্তে পেলে’ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) দুপুরে তার গ্রেপ্তারের বিষয়ে জানাতে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের প্রধান শফিকুল ইসলাম এ কথা জানান।
‘এক-এগারোর’ সময় রাজনৈতিক নেতাদের নির্যাতনের ‘মাস্টারমাইন্ড মাসুদ’, প্রচলিত এমন কথার প্রসঙ্গে তদন্ত চলবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমরা যদি এটা পাই তদন্ত, আমরা তো অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”
অন্যায়কারী যেই হোক, ‘পার পাবে না’ হুঁশিয়ারি দিয়ে পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, “এরকম যদি কোন বিষয় আসে বা এরকম যদি কেউ থাকে যে কেউ উনাদেরকে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত যে কারো অধিকার আছে আইনের আশ্রয় নেয়ার। এখনো যদি নেয় আমরা তাকে ওয়েলকাম জানাব।”
যদিও প্রথমে ‘এক-এগারোর’ সময় মাসুদের বিভিন্ন কৃতকর্মের বিষয় ডিবির তদন্তে আসবে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেছিলেন, “আমাদের যে পার্টিকুলার মামলা হয়, সে মামলার বিষয়ে মামলায় উনার সংশ্লিষ্টতা কতটুকু, ততটুকুই আমরা বিবেচনায় নিয়ে থাকি।”
তবে একইসাথে দেশের ‘গণতান্ত্রিক ধরা অব্যাহত রাখতে এবং ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে’ সকল অন্যায় ও অবিচারের ‘বিচার নিশ্চিতের’ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেন তিনি।
সোমবার গভীর রাতে বারিধারা ডিওএইচএস এলাকার বাসা থেকে ‘এক-এগারোর’ আলোচিত সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে ডিবি।
২০০৭ সালের ১১ জানুয়ারি দেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সাভারে ৯ পদাতিক ডিভিশনের জেনারেল অফিসার কমান্ডিং (জিওসি) ছিলেন। পরে তাকে গুরুতর অপরাধ ও দুর্নীতি দমনসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির প্রধান সমন্বয়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
২০০৮ সালের ২ জুন তাকে লে. জেনারেল পদে পদোন্নতি দিয়ে ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে (এনডিসি) নিয়োগ দেওয়া হয়। কিন্তু এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে তাকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করে ৮ জুন অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।


