বলিউডের অন্যতম প্রতিভাবান চলচ্চিত্র অভিনেতা, প্রযোজক আমির খান। তাকে বলা হয় ‘পারফেকশনিস্ট।’ সিনেমার চরিত্রকে নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলার জন্য তিনি চেষ্টার কোনো ত্রুটি রাখেন না। আর তাই আমির খানের প্রতিটি চরিত্রই দর্শকের মনে গেঁথে থাকে। শুক্রবার (১৪ মার্চ) এই গুণী অভিনেতার ৬০তম জন্মদিন। বিশেষ এই দিনে বলিউডে চলছে উৎসব…
‘তার মতো কেউ নেই’
পরিচালকদের চোখে আমিরের অসাধারণ প্রতিভার কথা প্রায়শই শোনা যায়। ‘রং দে বাসন্তী’ চলচ্চিত্রের পরিচালক রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা আমিরের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন,
“তিনি সম্পূর্ণভাবে নিজেকে পরিচালকের কাছে সমর্পণ করেন, কোনো প্রশ্ন ছাড়াই। তার প্রতিভা সাগরের মতো—আপনাকে শুধু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কত গভীরে ডুব দিতে চান।”
থ্রি ইডিয়টস এবং লাল সিং চাড্ডা ছবিতে আমিরের সঙ্গে অভিনয় করা মোনা সিংও তার বহুমুখী প্রতিভার প্রশংসা করে বলেন, “তিনি একাধারে একজন দুর্দান্ত মাল্টি-টাস্কার, যিনি সিনেমার প্রতিটি ক্ষেত্রে ২০০% নিজেকে নিযুক্ত করেন।”
১০০ কোটির ক্লাবের জনক
আমির খান বলিউডের অর্থনীতির ধারাই বদলে দিয়েছেন। ২০০৮ সালে ‘গজনি’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে তিনি প্রথম বলিউডে ১০০ কোটির মাইলফলক ছুঁয়েছিলেন।
দঙ্গল ছবির পরিচালক নীতেশ তিওয়ারি বলেন, “আমির কখনো সংখ্যার পেছনে ছোটেননি, তিনি সর্বদা উৎকর্ষের সন্ধান করেছেন। তার ফোকাস ছিল গল্প বলার ওপর, বক্স অফিসের আয় স্বাভাবিকভাবেই এসেছে।”
লাগানের ইতিহাস সৃষ্টি
২০০১ সালের ‘লাগান’ শুধুমাত্র একটি সিনেমা নয়, এটি ভারতীয় সিনেমার জন্য একটি যুগান্তকারী ঘটনা। অস্কারের জন্য মনোনীত হওয়া এই সিনেমা বলিউডের চিরাচরিত ধারা ভেঙে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিল।
চলচ্চিত্রের সহ-অভিনেতা দলিপ তাহিল বলেন, “গুজরাটের গ্রামে ধুতি পরা কৃষকদের নিয়ে ক্রিকেটভিত্তিক সিনেমা—অনেকেই সন্দেহ করেছিল এই ধারণায়। কিন্তু লাগান সব বাধা অতিক্রম করে প্রমাণ করেছিল যে, গল্পই আসল রাজা।”
নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করা এক কিংবদন্তী
শুধুমাত্র তার চলচ্চিত্রই নয়, আমির খান তরুণ অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও এক অনুপ্রেরণা। ‘ফানা’ সিনেমায় আমিরের সঙ্গে কাজ করা শ্রুতি শেঠ বলেন, “তিনি কখনো নিজের জন্য কাজ করেন না, তিনি সিনেমার জন্য কাজ করেন। এটা প্রতিটি অভিনেতার শেখার বিষয়।”
মোনা সিং আরও যোগ করেন, “আমির প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে চ্যালেঞ্জ করেন। তিনি এমন সিনেমা নির্বাচন করেন, যা প্রচলিত ধারার বাইরে। এ কারণেই তিনি কম সিনেমা করেন, কিন্তু প্রতিটি সিনেমাই মাস্টারপিস।”
সময়ের সীমানা ছাড়িয়ে এক কিংবদন্তী
তারে জমিন পার, পিকে, দঙ্গল—তার প্রতিটি সিনেমাই সমাজের প্রচলিত নিয়মকে চ্যালেঞ্জ করেছে এবং নতুন চিন্তাধারার জন্ম দিয়েছে।
বলিউড যখন তার ৬০তম জন্মদিন উদযাপন করছে, তখন একটাই সত্য স্পষ্ট হয়ে ওঠে—আমির খান কেবল একজন অভিনেতা নন, তিনি নিজেই একটি প্রতিষ্ঠান। – লাইভ ইন্ডিয়া







