জনপদ

আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলায় উপচেপড়া ভিড়

আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলায় উপচেপড়া ভিড়

শেরপুর শহরের নবীনগর ছাওয়াল পীরের দরগা সংলগ্ন খোলা মাঠে আজ শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেলে বসেছিল প্রায় আড়াইশ’ বছরের ঐতিহ্যবাহী পৌষমেলা।

নবীনগর এলাকাবাসীর উদ্যোগে প্রতিবছরের মতো এবারও এ পৌষমেলার আয়োজন করা হয়।

মেলায় ছিল বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, তরুণ-যুব সহ শিশুদের উপচেপড়া ভীড়। পৌষমেলায় গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী ‘গাঙ্গি’ খেলা (কুস্তি) ছাড়াও ঘোড়দৌড়, সাইকেল রেস এবং নারীদের জন্য মিওজিকাল চেয়ার খেলা প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়।

পৌষমেলার প্রধান আকর্ষণ ‘গাঙ্গী খেলা’ এবার বড়-মাঝারি-ছোট এ তিনটি গ্রুপে অনুষ্ঠিত হয়। বিভিন্ন খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা বিএনপি’র যুগ্ম আহ্বায়ক ও বিএনপি মনোনীত শেরপুর-১ (সদর) আসনের এমপি প্রার্থী ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াঙ্কা, সদর উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মো. হযরত আলী। অতিথিরা বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিঝয়ীদের হাতে পুরষ্কার তুলে দেন।

মেলায় বিভিন্ন পিঠা ও বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মজাদার খাবারের দোকান বসে। পাশের পালপাড়া এলাকার মৃৎশিল্পীদের সুনিপুণ হাতে তৈরি বিভিন্ন ধরনের খেলনা ও তৈজসপত্র ছাড়াও শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, মেয়েদের প্রসাধনী ও চুড়ি-মালার দোকানের পসড়াও সাজিয়ে বসেন দোকানীরা।

এছাড়া গ্রামীণ ঐতিহ্যের চিনির তৈরি সাজ, উরফা, কদমা, বাতাসা, নিমকি কালাই, খুরমা, ঝুরি, মিষ্টি এবং বিভিন্ন মুখরোচক খাবারের দোকানও বসে। শিশু-কিশোর ও তরুণ-তরুণী থেকে শুরু করে সব বয়সের মানুষের উপচে পড়া ভীড়ে পৌষমেলা হয়ে উঠে জমজমাট ও প্রাণবন্ত।

মেলায় গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভীড় জমায়। এ পৌষমেলাকে ঘিরে নবীনগর ও আশপাশের এলাকার বিয়ে হয়ে যাওয়া মেয়েরা বাবার বাড়ি বেড়াতে আসার প্রচলনও রয়েছে।

পৌষ মেলা আয়োজক কমিটির সমন্বয়কারী নবীনগরের বাসিন্দা সদর উপজেলা যুবদলের সভাপতি পারভেজ আহম্মেদ জানান, স্থানীয় নবীনগর এলাকাবাসী প্রায় আড়াইশ’ বছর যাবত এ মেলার আয়োজন করে আসছে।

প্রতি বছর ছাওয়াল পীরের দরগাহ সংলগ্ন মাঠে বাংলা পৌষ মাসের শেষদিন (পঞ্জিকা মতে) এ পৌষমেলা অনুষ্ঠিত হয়। মেলায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে হাজার হাজার নারী-পুরুষ ও শিশুরা ভীড় করে।

প্রতিবেদক

হাকিম বাবুল

শেরপুর জেলা প্রতিনিধি

আরও →
পরবর্তী সংবাদ প্রস্তুত হচ্ছে…