প্লাস্টিকের মাধ্যমে নানাভাবে দূষিত হচ্ছে সাগর। এতে করে জলজ প্রাণী, সাগরের তলদেশের পরিবেশ প্রতিবেশ দিন দিন বিপন্ন হয়ে যাচ্ছে। হুমকির মুখে পড়েছে জীববৈচিত্র্য।
এ ব্যাপারে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি, প্লাস্টিক ব্যবহারে নিরুৎসাহিত করতে কক্সবাজার সৈকতে শুরু হয়েছে ৪ মাসব্যাপী ‘সমুদ্রে প্লাস্টিক দূষণ প্রতিরোধ কর্মসূচি’।

বৃহস্পতিবার ৭ নভেম্বর সকাল ১১ টায় কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে জেলা প্রশাসন ও বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের যৌথ আয়োজনে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন।
উদ্বোধনের প্রথম দিনে সুগন্ধা পয়েন্ট ও সি-গাল পয়েন্টে দু’টি ‘প্লাস্টিক বিনিময় স্টোর’ স্থাপন করা হয়েছে। যেখানে পর্যটকরা তাদের ব্যবহৃত সিঙ্গেল ইউজ প্লাস্টিক বোতল জমা দিলেই পাচ্ছেন নিশ্চিত উপহার। পাশাপাশি স্থানীয় অধিবাসীদের জন্য বসানো হয়েছে ‘প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার’ যেখান থেকে ৪০০ থেকে ৫০০ স্থানীয় দুস্থ পরিবার প্লাস্টিকের বিনিময়ে বাজার করতে পেরেছেন। উদ্বোধনের প্রথমদিনেই প্রায় ৪ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা হয়েছে।

বিদ্যানন্দ ফাউন্ডেশনের স্থানীয় সমন্বয়ক মোবারক হোসেন বলেন, এবছরে এই কার্যক্রম থেকে ১০০ মেট্রিক টনের বেশি প্লাস্টিক সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। সংগৃহীত প্লাস্টিক সমূহ শতভাগ রিসাইকেল করার জন্য দেশের স্বনামধন্য রিসাইকেল কোম্পানির সাথে চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে। সংগৃহীত প্লাস্টিকের একটি অংশ দিয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে নির্মাণ করা হবে ‘প্লাস্টিকের ভাস্কর্য’।
সমুদ্র সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্টে বিশাল একটি সুপারশপ বসেছে নানা রকমের নিত্যপ্রযোজনীয় পণ্যের পসরা নিয়ে। মানুষ প্লাস্টিকের বিনিময়ে এসব কিনতে পারছেন। বাজারে ১ কেজি প্লাস্টিকের দাম ২০-৩০ টাকা হলেও এই বাজারে সেটির প্রায় ৫০-৮০ টাকা মূল্য দেয়া হচ্ছে। এতে ১ কেজি প্লাস্টিক দিয়ে ১ কেজি চাল যেমন পাওয়া যাচ্ছে তেমনি ৬টি ডিম পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ১ কেজি গ্রাস্টিকে। প্রায় ১৯ টি পণ্য থেকে নিজেরাই বাছাই করে কেনার স্বাধীনতা পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপার কক্সবাজারের সভাপতি এইচ এম এরশাদ বলেন, প্লাস্টিকের কারণে দিন দিন দূষণ বেড়ে যাচ্ছে সাগরে। কক্সবাজারে আগত পর্যটকরা নানা প্লাস্টিক সামগ্রী ব্যবহার করে তার সৈকতে রেখে চলে আসে। এ প্লাস্টিক গুলো সাগরে চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি।







