ঢাকা কলেজ ও সিটি কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত একজন বাসযাত্রীসহ অন্তত ১০ জন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
আজ মঙ্গলবার (২২ এপ্রিল) দুপুর থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত তাদেরকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।
আহতরা হলেন- ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থী নাজমুস সাকিব (১৮), সিয়াম (১৭), রাজীন (১৮), সাফাত (১৮), আবিদ (২২), লিয়ন (২৫), তানভির ইসলাম তুহিদ (২৪) ফজলে হাসান (২২)। সিটি কলেজের শামীম (১৮)। এছাড়া আহত হয়েছেন বাসযাত্রী সানি (৩২)।
ঢাকা মেডিকেল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ মো. ফারুক জানান, আহতদের সবাই প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। কারও অবস্থা গুরুতর নয়।
আহতদের অনেকে প্রথমে স্থানীয় পপুলার হাসপাতালে নেয়।
মঙ্গলবার দুপুর ১২টার দিকে দুই কলেজেরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। এরপর ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সিটি কলেজে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এরপর পৌনে ২টার দিকে ফের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়। একপর্যায়ে পুলিশ টিয়ারগ্যাস নিক্ষপ করে ও লাঠিচার্জ করে শিক্ষার্থীদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা দলবদ্ধভাবে সিটি কলেজের সামনে জড়ো হন। তখন সিটি কলেজের শিক্ষকরা তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন। এ সময় দলগতভাবে ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরা সিটি কলেজের গেটে ইট-পাটকেল মারতে থাকেন।
পুলিশের রমনা বিভাগের উপ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরেই দুই কলেজ সংঘর্ষে জড়ায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আহত হয় ১৫ জনের অধিক শিক্ষার্থী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে চেষ্টা করছে পুলিশ।
তিনি বলেন, লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। যাতে বিশৃঙ্খলা না হয় সেজন্য ঢাকা ও সিটি কলেজের সামনে অতিরিক্ত নিরাপত্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে সিটি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ এফ এম মোবারক হোসাইনের দাবি, তার প্রতিষ্ঠানেরই গুরুতর আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন শিক্ষার্থী।
এদিকে, চলমান সংঘর্ষের পাঁচ ঘণ্টা পেরোলেও এখনও থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে পুরো সায়েন্সল্যাব এলাকায়। থেমে থেমে ককটেল বিস্ফোরণ এবং ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ারও ঘটনা ঘটছে। সংঘর্ষের ঘটনায় নিউমার্কেটের দুই পাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। শুধু চালু আছে ধানমণ্ডি থেকে সায়েন্সল্যাব মোড় হয়ে শাহবাগ রুটের গাড়ি।
ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সিটি কলেজের শিক্ষার্থীরা আগে হামলা চালিয়েছে। আর সিটি কলেজ শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ঢাকা কলেজের শিক্ষার্থীরাই আক্রমণ করে তাদের। ভাঙচুর করে কলেজের স্থাপনা।








