ভারতের ইন্দোর শহরে একটি আবাসিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতজন জীবন্ত দগ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
বুধবার (১৮ মার্চ) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মধ্যপ্রদেশের বেঙ্গলি স্কোয়ারের কাছে তিলক নগর থানা এলাকায় ভোর ৪টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রাথমিক তদন্ত অনুযায়ী, বাড়ির বাইরে স্থাপিত একটি বৈদ্যুতিক গাড়ির (ইভি) চার্জিং পয়েন্টে শর্ট সার্কিট থেকে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে সঙ্গে সঙ্গে গাড়িটিতে আগুন ধরে যায় এবং কয়েক মিনিটের মধ্যে তা দ্রুত তিনতলা ভবনজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৈদ্যুতিক গাড়িটি সারারাত চার্জে ছিল। হঠাৎ সৃষ্ট স্ফুলিঙ্গ থেকে বিস্ফোরণ ঘটলে আগুন ভয়াবহ রূপ নেয়। আগুন আরও মারাত্মক আকার ধারণ করে যখন তা ভবনের ভেতরে মজুত থাকা এক ডজনের বেশি এলপিজি সিলিন্ডারের স্তূপে পৌঁছে যায়। এরপর একের পর এক শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে। অন্তত চারটি সিলিন্ডার পরপর বিস্ফোরিত হয়ে পুরো এলাকায় কম্পন সৃষ্টি করে এবং ভবনের একাংশ ধসে পড়ে।
ঘটনাটি এমন সময়ে ঘটে, যখন পুগালিয়া পরিবারের বাড়িতে আত্মীয়রা বেড়াতে এসেছিলেন এবং অনেকেই সেখানে রাত্রিযাপন করছিলেন। ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
ইন্দোর পুলিশ কমিশনার সন্তোষ কুমার সিং জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ইভি চার্জিং পয়েন্টে বিস্ফোরণ থেকেই আগুনের সূত্রপাত। পরে তা বাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে এবং গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। বাড়ির ভেতরে পলিমারসহ দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে প্রাথমিকভাবে ধারনা করা হচ্ছে।
এদিকে, ইলেকট্রনিক ডোর লক থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। আগুন লাগার সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে লকগুলো কাজ করা বন্ধ করে দেয়, ফলে অনেকেই ভেতরে আটকা পড়েন। উদ্ধারকর্মীদের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়, এতে মূল্যবান সময় নষ্ট হয়। খবর পেয়ে দমকল বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে কয়েক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ততক্ষণে ভবনটির বড় অংশ পুড়ে যায়।
ইন্দোরের জেলা প্রশাসক শিবম ভার্মা জানান, ভোর সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টার মধ্যে আগুন লাগে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উদ্ধার তৎপরতা চলছে। স্থানীয় বাসিন্দারাও প্রথমদিকে উদ্ধার কাজে এগিয়ে আসেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আমরা বাইরে বেরিয়ে আসি। আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছিল। আমরা কোনোমতে কয়েকজনকে উদ্ধার করতে পেরেছি। এই মর্মান্তিক ঘটনা আবাসিক এলাকায় ইভি চার্জিং ব্যবস্থার নিরাপত্তা এবং বাড়িতে বিপুল পরিমাণ গ্যাস সিলিন্ডার ও দাহ্য পদার্থ মজুত রাখার ঝুঁকি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।








