ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশের পশ্চিম বান্দুং এলাকায় ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৮২ জন। দেশটির দুর্যোগ প্রশমন সংস্থা এ তথ্য জানিয়েছে।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
দুর্যোগ প্রশমন সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি শনিবার (২৪ জানুয়ারি) বলেন, নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা অনেক বেশি। আজ আমরা অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম সর্বোচ্চ পর্যায়ে নেওয়ার চেষ্টা করব।
ইন্দোনেশিয়ার সংবাদমাধ্যম কম্পাস জানিয়েছে, শুক্রবার দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে পশ্চিম বান্দুংয়ের পাসিরলাঙ্গু গ্রামে ভূমিধসটি ঘটে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মাউন্ট বুরাংরাং পাহাড়ের ঢাল থেকে প্রবল পানির স্রোত ও নরম মাটি নেমে এসে অন্তত ৩০টি বাড়ি ধ্বংস করে দেয়। ওই সময় বেশিরভাগ বাসিন্দা ঘুমিয়ে ছিলেন।
কম্পাস আরও জানায়, নিহত ও আহতদের সঠিক সংখ্যা নির্ধারণের প্রক্রিয়া এখনো চলমান। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টানা ভারী বৃষ্টিতে এলাকাটি প্লাবিত ছিল।
আরও বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় ভূমিধসপ্রবণ এলাকাগুলোর বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। প্রাথমিক হিসাবে ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা প্রায় ৩০ হেক্টরজুড়ে বিস্তৃত।
এদিকে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, শুক্রবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভারী বৃষ্টিসহ চরম আবহাওয়ার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রের বরাতে বলা হয়েছে, শনিবার সকালের ভূমিধসে অন্তত ৩০টি বাড়ি মাটিচাপা পড়েছে। পুলিশ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে সমন্বয় করে উদ্ধার তৎপরতা চালাচ্ছে।
এ ছাড়া জাকার্তাভিত্তিক বার্তা সংস্থা আন্তারা জানিয়েছে, সিতারুম ও সিবিট নদীর পানি উপচে পড়ায় পশ্চিম জাভার কারাওয়াং জেলার ৩০টি উপজেলার মধ্যে ২০টিতে বন্যা দেখা দিয়েছে। নদীর আশপাশে বসবাসরতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
আন্তারা আরও জানায়, টানা ভারী বৃষ্টির কারণে পূর্ব জাকার্তায় শত শত মানুষ বন্যার হাত থেকে বাঁচতে এলাকা ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মাসেও ইন্দোনেশিয়ার উত্তর সুমাত্রা, পশ্চিম সুমাত্রা ও আচেহ প্রদেশে ভূমিধস ও বন্যায় এক হাজার ১৭০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। ওই দুর্যোগে পরিবেশগত ক্ষতির ভূমিকা থাকতে পারে এমন অভিযোগে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দেশটির সরকার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বন উজাড়, জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে।








