প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী বলেছেন, আপনারা জানেন এ দেশের প্রায় চার কোটি মানুষ বিভিন্ন লিটিগেশনের (মামলা) সাথে জড়িত। তাদেরকে নিত্যদিন আদালত প্রাঙ্গনে আসা লাগে। তারাই এই রাষ্ট্রের মালিক। তাদেরকে বিচারিক সেবা দেওয়ার দায়িত্ব আমাদের।
বুধবার ১২ এপ্রিল দুপুরে প্রধান বিচারপতি মাগুরা জেলা জজ আদালত চত্বরে বিচারপ্রার্থীদের বিশ্রামাগার ন্যায়কুঞ্জের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনকালে এসব কথা বলেন।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান বিচারপতি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন আদালতে আসেন স্থান সংকুলান হয় না, তবে তারা ইতস্তত ঘুরতে থাকেন। বিশেষ করে যখন নারীরা দূরদূরান্ত থেকে স্বাক্ষী দিতে আসেন অথবা তাদের পরিজনদের যারা আসামীর কাঠগড়ায় দাড়িয়ে থাকে তাদের সাথে দেখা করার জন্য। তারা যাতে এখানে এসে অস্বস্তিবোধ না করে সেটা সুরাহা করার জন্য আমরা তাদের বসার জায়গা অর্থাৎ বিশ্রামাগার করার সিন্ধান্ত নেই। আমরা এটার নাম দিয়েছি ন্যায়কুঞ্জ।
তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি জেলার জজ আদালতে ন্যায়কুঞ্জ প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার আমাদেরকে প্রায় ৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। যা থেকে প্রতি জেলায় ৫০ লাখ টাকা খরচ করতে পাররে। আমার মনে হয় অতি সাধারণ মানুষ যারা আদালতে আসবে তাদের এটি বেশ উপকারে আসবে।
এ সময় মাগুরার বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ অমিত কুমার দে, জেলা প্রশাসক আবু নাসের বেগ, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যালের বিজ্ঞ বিচারক হাসান জাহিদ, ভারপ্রাপ্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হুমায়ুন কবির, মাগুরা পুলিশ সুপার মশিউদ্দৌলা রেজা, পাবলিক প্রসিকিউটর কাজী এস্কেন্দার আজম বাবলু, জিপি মাহাবুব মোর্শেদ বাবলা, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শফিকুল ইসলাম বাবলু ও সাধারণ সম্পাদক সাজিদুর রহমান সংগ্রামসহ বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ন্যায়কুঞ্জে প্রায় ৬০ থেকে ৭০ জন লোকের বসার ব্যবস্থা থাকবে। দু’টি টয়লেট থাকবে, একটি পুরুষদের জন্য অন্যটি নারীদের জন্য। এছাড়া একটি ফাস্টফুডের দোকান থাকবে। যাতে করে যারা এ রাষ্ট্রের মালিক তারা এখানে এসে স্বস্তিতে কিছু সময় কাটাতে পারে বা বসতে পারে। ন্যায় বিচারের জন্যই আমাদের আদালত। এই ধারণা থেকে এই ন্যায়কুঞ্জ করা বলেও জানান প্রধান বিচারপতি।
প্রধান বিচারপতি পরে আদালত চত্বরে একটি লিচু গাছের রোপন করেন। এছাড়া বিচারক ও আইনজীবীদের সাথে মতবিনিময় করেন।







