শুক্রবার সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনায় মারা যান ‘ইয়া আলি’ খ্যাত জনপ্রিয় গায়ক জুবিন গার্গ। তার মতো মর্মান্তিকভাবে ২৩ বছর আগে এক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছিলেন তার ছোট বোন জংকি বার্থাকুর।
২০০২ সালের ১২ জানুয়ারি আসামের সোনিতপুর জেলায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় মারা যান জংকি। তখন তিনি ১৮ বছরের কিশোরী! স্থানীয় গণমাধ্যম জানায়, সেদিন তিনি তাঁর ভাইয়ের (জুবিন) এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সুতিয়া শহরে যাচ্ছিলেন। পথে বালিপাড়া এলাকায় ট্রাকের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষে প্রাণ হারান তিনি।
কাকতালীয়ভাবে জুবিন গার্গও প্রথমে ছোট বোনের সঙ্গে একই গাড়িতে ছিলেন, তবে কয়েক মিনিট আগেই গাড়ি বদলে নেওয়ায় তিনি বেঁচে যান।
ভাইয়ের মতো জংকিও বহুমুখী প্রতিভাধর ছিলেন। তিনি একাধিক অসমিয়া টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করেছেন। তার অভিনীত চলচ্চিত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে তুমি মুর মাথু মুর (২০০০), জনাকি মন (২০০২) এবং দাগ (২০০১) উল্লেখযোগ্য।
ছোট বোনের মর্মান্তিক এই মৃত্যু সব সময় পোড়াতো জুবিনকে। জনপ্রিয় এই শিল্পী প্রায়ই তার প্রয়াত ছোট বোনকে স্মরণ করতেন সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্টে। ২০২০ সালে তিনি জংকির জন্মদিনে (যা হতো ৩৬তম) একটি আবেগঘন শুভেচ্ছাবার্তাও দিয়েছিলেন!
এদিকে জুবিন গার্গের মৃত্যুতে ভারতের সাংস্কৃতিক জগতে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন বলিউড ও ভারতীয় সংগীত জগতের বহু তারকা। তাদের মধ্যে রয়েছেন যেমন প্রীতম, আদিল হুসেন, বিশাল দাদলানি, ও আরমান মালিক।
আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা এক বিবৃতিতে গভীর শোক জানিয়ে লিখেছেন,“আজ আসাম তার অন্যতম প্রিয় সন্তানকে হারাল। কীভাবে জুবিনকে বর্ণনা করব, বুঝতে পারছি না। তিনি অনেক তাড়াতাড়ি চলে গেলেন, এই বয়সে তাঁর চলে যাওয়ার কথা নয়। জুবিনের কণ্ঠে ছিল এক অদ্ভুত শক্তি, যা মানুষকে উদ্দীপিত করত, তাঁর সংগীত সরাসরি হৃদয়ে নাড়া দিত। তিনি এক শূন্যতা তৈরি করে গেলেন, যা কখনো পূর্ণ হবে না। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাঁকে আসামের সাংস্কৃতিক আইকন হিসেবে মনে রাখবে, তাঁর কাজ অনুপ্রেরণা যোগাবে অসংখ্য শিল্পীকে।”
জুবিন গার্গের পরিবারে আছেন তাঁর স্ত্রী, ফ্যাশন ডিজাইনার গারিমা সাইকিয়া গার্গ। এনডিটিভি








