মেয়েদের বিশ্বকাপে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের কাছে পাত্তা পায়নি স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। সিডনিতে স্বাগতিকদের প্রায় ৮০ হাজার দর্শকের সামনে পুরোটা সময় প্রাধান্য বিস্তার করে খেলে ৩-১এ জিতেছে মিলি ব্রাইটের ইংল্যান্ড। টানা তৃতীয়বার শেষ চারে খেলে প্রথমবার বিশ্বকাপের ফাইনালে পৌঁছাল সিংহীবাহিনী।
ইংল্যান্ড শিরোপার মঞ্চে লড়বে স্পেনের বিপক্ষে। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় বিকাল ৪টায় সিডনি অলিম্পিক পার্ক স্টেডিয়ামে গড়াবে ট্রফির মহারণ।
আক্রমণের সাথে বল দখলেও প্রাধান্য ছিল ইংল্যান্ডের। প্রথমার্ধে মাত্র ৩৩ শতাংশ বল পেয়েছে অস্ট্রেলিয়া। বাকি ৬৭ শতাংশ ইংল্যান্ডের পায়ে ছিল। ইংল্যান্ডের সাতটি শট ছিল গোলের দিকে, যার দুটি শট গোলমুখে থাকে ও একটি গোল আদায় করে নেয়। অজিদের পাঁচটি শটের একটি ছিল গোলমুখে।
প্রথমার্ধ থেকে সুযোগ নষ্ট করতে থাকে স্বাগতিক দলটি। সপ্তম মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বাড়ানো বলে দারুণ সুযোগ পান অস্ট্রেলিয়ার অধিনায়ক স্যাম কের। কাজে লাগাতে পারেননি, অফসাইডের ফাঁদে পড়েন ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র গোলস্কোরার।
নবম মিনিটে প্রথম সুযোগ পায় ইংল্যান্ড, গোলরক্ষক ম্যাকেঞ্জি আর্নন্ডের দৃঢ়তায় সহজ সুযোগ নষ্ট করেন জর্জিয়া স্টানওয়ে। ম্যাচের ১০ মিনিটে প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন ইংল্যান্ডের অ্যালেক্স গ্রীনউড।
ম্যাচের ৩৬ মিনিটে অস্ট্রেলিয়ার গোলবারের কাছে থ্রো পায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে থ্রোতে বল বক্সের মধ্যে যায়, জটলা তৈরি হয় এবং বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত ভলিতে ফারপোস্টের টপ কর্নার দিয়ে গোল আদায় করেন এলা টনি। ১-০তে এগিয়ে যায় ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন দলটি।
দ্বিতীয়ার্ধের প্রথম থেকে আক্রমণাত্মক শুরু করে অজি দলটি। বল পজিশনও বাড়তে থাকে। তবুও ইংলিশ রক্ষণে ফাটল ধরাতে পারেনি। ৬৩ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সুযোগ আসে অজিদের। মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে অধিনায়ক স্যাম কের একাই টেনে আনেন, বক্সের বাইরে থেকে নেন দুর্দান্ত এক শট। অসাধারণ শটে সমতায় ফেরে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া।
অস্ট্রেলিয়া সমতায় ফিরে বেশিক্ষণ ধরে রাখতে পারেনি। ৭১ মিনিটে আবারও লিড নেয় ইংল্যান্ড। এবার আনন্দে ভাসান লরেন হেম্প। বক্সের মধ্যে অস্ট্রেলিয়ার দুই ডিফেন্ডারের ভুলে সুযোগ তৈরি করে বল জালে জড়ান।
সময়ের সাথে অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণের ধার বাড়তে থাকে। ৮২ মিনিটে স্যাম কের দারুণ হেড করলেও গোলবারের সামান্য উপর দিয়ে চলে যায়। পরের মিনিটে কোর্টনি ভাইনের নিশ্চিত সুযোগ রুখে দেন ইংল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যারি আরপস। তারপরের মিনিটে আবারও সুযোগ নষ্ট করেন কের।
পাল্টা আক্রমণে ৮৬ মিনিটে অস্ট্রেলিয়াকে স্তব্ধ করে দেন অ্যালিসিয়া রুসো। বক্সের বাইরে থেকে বাড়ানো বল ডানপায়ের শটে জালে জড়ান রুসো। শেষ হয়ে যায় অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচে ফেরার আশা। শেষ হয় অজিদের প্রথমবার ফাইনাল খেলার স্বপ্নও।








