ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে পূর্ব শত্রুতার জের ধরে ফের দুই গ্রুপের সংঘর্ষে মসজিদের ইমামসহ ২ জন নিহত ও উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলার গোয়ালনগর গ্রামে রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে এই সংঘর্ষ শুরু হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হয়ে মসজিদের ইমাম মাওলানা হাবিবুর রহমান (৩৫) ও আক্তার মিয়া (৪৫) নামে ২ জন নিহত হন এবং উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী যৌথভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সংঘর্ষ চলাকালে মাইক ব্যবহার করে নির্দেশনা দেওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
এর আগেও গত মঙ্গলবার এই দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর পর থেকে উভয় পক্ষের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে উত্তেজনা চলছিল।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন সকালে গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অনিয়মের অভিযোগে বিএনপির সমর্থক গোয়ালনগর গ্রামের রহিম তালুকদার গোষ্ঠীর জিয়াউর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনী। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তাকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এ নিয়ে জিয়াউর রহমান একই গ্রামের কাসেম মিয়ার গোষ্ঠীর শিশু মিয়াকে সন্দেহ করতে থাকেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি জিয়াউর গোয়ালনগর গ্রামে শিশু মিয়াকে তার মোটরসাইকেলসহ আটক করে মারধর করেন এবং মোটরসাইকেলটি ছিনিয়ে নেন।
এ নিয়ে গত ১৭ মার্চ মঙ্গলবার রহিম তালুকদার গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এরই জের ধরে আজ মঙ্গলবার সকালে ফের রহিম গোষ্ঠী ও কাসেম গোষ্ঠীর লোকজন টেঁটা, বল্লমসহ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে শত শত লোক সংঘর্ষে নেমে পড়ে। এক পর্যায়ে সংঘর্ষ এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে টেঁটাবিদ্ধ হন গোয়ালনগর স্কুলপাড়া জামে মসজিদের ইমাম ও বড় গোষ্ঠীর সদস্য মাওলানা হাবিবুর রহমান (৩৫)। পরে পার্শ্ববর্তী অষ্টগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। অপরদিকে, কাছাকাছি সময়ে সংঘর্ষে আক্তার মিয়া (৪৫) নামে একজন ঘটনাস্থলে নিহত হন।
এ সময় উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়েছেন। আহতরা স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। গুরুতর আহতদের ঢাকা ও জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
গোয়ালনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজহারুল হক চৌধুরী বলেন, পূর্বের বিরোধের জের ধরেই এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালে দুইজন চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় রেফার করা হয়েছে।
এ বিষয়ে পুলিশ সুপার শাহ মোহাম্মদ আব্দুর রউফ জানান, পূর্ব বিরোধের জের ধরে দুই পক্ষের লোকজন সকাল থেকে সংঘর্ষে জড়ায়। এতে ২ জন নিহত হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।








