রাখাইন রাজ্যের একটি গ্রামে দুটি বেসরকারি স্কুলে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিমান হামলায় ১৮ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই শিক্ষার্থী বলে জানিয়েছে স্থানীয় গণমাধ্যম ও আর্মড গ্রুপ ‘আরাকান আর্মি (এএ)’।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।
আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থুখা এক বিবৃতিতে জানান, শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) কেয়াউকটাউ টাউনশিপের থায়েত থাপিন গ্রামে অবস্থিত পিন্ন্যার পান খিন এবং আ মিয়িন থিত বেসরকারি হাইস্কুলে সামরিক বাহিনীর একটি জেট বিমান থেকে দুটি বোমা নিক্ষেপ করা হয়।
তিনি বলেন, নিহতদের অধিকাংশই ১৭ থেকে ১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী। তবে ইন্টারনেট ও মোবাইল সেবার সীমিত প্রবেশাধিকার থাকায় ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
আরাকান আর্মির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নিরীহ শিক্ষার্থীদের মৃত্যুর কারণে আমরা নিহতদের পরিবারের মতোই শোকাহত। এতে সামরিক বাহিনীকে দায়ি করা হয়।
আরাকান আর্মি হচ্ছে রাখাইন জাতিগোষ্ঠীর সশস্ত্র সংগঠন, যারা মিয়ানমারের কেন্দ্রীয় সরকারের কাছ থেকে স্বায়ত্তশাসনের দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে তারা রাখাইনে সামরিক অভিযান জোরদার করে এবং ইতিমধ্যে অঞ্চলটির একটি গুরুত্বপূর্ণ সেনাঘাঁটি ও ১৭টির মধ্যে ১৪টি টাউনশিপ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে।
রাখাইনের কেয়াউকটাউ শহর, যা মানদালয় থেকে প্রায় ২৫০ কিমি দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত, ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে আসে।
২০২১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি সেনাবাহিনী অং সান সুচির নির্বাচিত সরকারকে সরিয়ে ক্ষমতা দখলের পর থেকে মিয়ানমার অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দমন করে সহিংস পন্থা গ্রহণের পর বহু মানুষ সশস্ত্র প্রতিরোধে নামেন, যার ফলে দেশটির অনেক এলাকায় সংঘাত চলছে।
এখন পর্যন্ত প্রায় ৭ হাজার ২০০ মানুষ নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হয়েছে বলে বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থার তথ্যে জানা গেছে।
সম্প্রতি সামরিক সরকার পিপলস ডিফেন্স ফোর্সের ওপর বিমান হামলা বাড়িয়েছে। তবে এই প্রতিরোধ বাহিনীর কাছে আকাশ হামলা প্রতিরোধের কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেই।
রাখাইনে ত্রাণকাজ পরিচালনাকারী ওয়াই হুন আউং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা স্কুলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে ছিলেন। তিনি আরও জানান, হামলায় আশপাশের অন্তত ৬টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ২১ জন আহত হয়েছে, যাদের মধ্যে ছয়জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, একটি সামরিক যুদ্ধবিমান ৫০০ পাউন্ড ওজনের দুটি বোমা ফেলে দেয়, যখন শিক্ষার্থীরা ঘুমাচ্ছিল। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে স্কুল ভবনের ধ্বংসাবশেষ এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা দেখা যায়।
এদিকে শনিবার ইউনিসেফ এক বিবৃতিতে এই নৃশংস হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, রাখাইন রাজ্যে ক্রমবর্ধমান সহিংসতার ধারায় এটি আরেকটি ভয়াবহ সংযোজন, যেখানে শিশু ও পরিবারগুলো এর চরম মূল্য দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, রাখাইন রাজ্য, যা পূর্বে আরাকান নামে পরিচিত ছিল, সেখানে ২০১৭ সালে সেনাবাহিনীর দমন-পীড়নের মুখে প্রায় ৭ লাখ ৪০ হাজার রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।








