শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার পর কুমিল্লাজুড়ে সংঘাত-সহিংসতা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দুই পুলিশসহ অন্তত ১১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
সোমবার বিকেল থেকে আজ মঙ্গলবার ৬ আগস্ট বিকেল পর্যন্ত বিভিন্ন মাধ্যমে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
নিহতদের মধ্যে কুমিল্লার তিতাস থানার এ এস আই রেজাউল করিম, কনস্টেবল মাইনুদ্দিন লিটন, দাউদকান্দি উপজেলার সদরের তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া, চৌদ্দগ্রাম উপজেলার জামসেদ এবং নগরীর তালপুকুর পাড় এলাকার সামির পরিচয় পাওয়া গেছে। এছাড়াও নগরীর অশোকতলা এলাকার সাবেক কাউন্সিলর শাহ আলম খানের বাড়িতে আগুন দিতে গিয়ে সেখানে পুড়ে ৬ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
জানা যায়, সোমবার বিকেলে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা তিতাস থানা ঘেরাও করে। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাতাড়ি গুলি করলে কমপক্ষে ৩০ জন গুলিবিদ্ধ হয়। পরে সেনাবাহিনীর সদস্যরা থানায় পৌঁছে পুলিশ সদস্যদের উদ্ধার করেন। তাদের উদ্ধারের পর কিছু মানুষ তিতাস থানা এবং থানার পাশের মার্কেটে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় থানা পাহারায় থাকা পুলিশ সদস্য রেজাউল ও লিটন জীবন রক্ষার্থে থানার পেছনের ফটক খুলে পালানোর চেষ্টা করেন। লোকজন তাদের পিটুনি দিলে ঘটনাস্থলেই তারা নিহত হন।
অপরদিকে, সোমবার বিকেলে প্রায় কাছাকাছি সময়ে দাউদকান্দি মডেল থানা ঘেরাও করতে যান বিক্ষুব্ধ জনতা। এসময় পুলিশ আত্মরক্ষার্থে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। পুলিশের গুলিতে মারা যান দাউদকান্দি উপজেলার সদরের তুজারভাঙা গ্রামের বাসিন্দা বাবু মিয়া। তিনি বাজার করতে ঘর থেকে বের হয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন স্বজনরা। একই দিন বিকেলে কুমিল্লা নগরীর তালপুকুর পাড় এলাকার একটি বাসায় হামলা চালায় বিক্ষুব্ধরা। এসময় সামি নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
একই দিন বিকেলে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে জামসেদ নামে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
সাবেক কাউন্সিলরের বাসায় আগুন দিতে গিয়ে ৬ জনের মৃত্যুর খবর
কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম খানের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ভাংচুর করতে গিয়ে আগুনে পুড়ে ৬ জন মারা গেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এর মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে সোমবার রাতে ৫ জন এবং মঙ্গলবার সকালে ১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, সোমবার রাত ৮টার দিকে শতাধিক বিক্ষুব্ধ জনতা শাহ আলম খানের বাসভবনে ভাঙচুর চালায়। এসময় বিক্ষুব্ধদের একটি অংশ ভাঙচুর করতে করতে ভবনের তৃতীয় তলায় উঠে যায়। একই সময়ে বিক্ষুব্ধদের অপর একটি অংশ নিচতলায় আগুন লাগিয়ে দেয়। মুহূর্তেই আগুনের শিখা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে ধোয়ায় দম বন্ধ হয়ে এবং আগুনে পুড়ে ৬ জন মারা যান।
স্থানীয় বাসিন্দা জয়াশীষ বলেন, রাতে আমরা ভবনটিতে আগুন জ্বলতে দেখেছি। শুনেছি আগুনে পুড়ে ৬/৭ জন মারা যায়। তাদের বাসা অশোকতলা এলাকাতেই। রাতে আশপাশের বাসা থেকে স্বজন হারানোর কান্নাও শুনেছি।
এ বিষয়ে কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার সাইদুর রহমানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কান্দিরপাড় পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীনেশ কুমার বলেন, কোথায় কি হয়েছে কোনো কিছুই বলতে পারবো না। নিজেরাই আতঙ্কে আছি।
কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বী জানান, সোমবার বিকেল থেকে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বিভিন্ন স্থান থেকে আহত হয়ে ৭৫ জন চিকিৎসার জন্য এসেছেন। এর মধ্যে ৩৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একই সময়ে তিতাস থানার এক পুলিশ সদস্যের মরদেহও হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়।








