সারাদেশে কালবৈশাখী ঝড়ে গাছপালা উপড়ে এবং বজ্রপাতে কমপক্ষে ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ৪ জেলাতেই মারা গেছেন ৮ জন। এসময় বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
শুধু ঝালকাঠিতেই ৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া পটুয়াখালীতে ২ জন, পিরোজপুরে ১ জন, ভোলায় ২ জন, নেত্রকোনায় ১ জন ও বাগেরহাটে ১ মারা যান। ঝড়ে বহু গাছপালা উপড়ে পড়েছে, বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি। পটুয়াখালীর তেতুলিয়া নদীতে কয়েকটি মাছ ধরার ট্রলার ও নৌকা ডুবিতে ৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছেন।
ঝালকাঠি:
রোববার সকাল ১০টায় ঝালকাঠিতে হঠাৎ বৃষ্টি ও বজ্রপাতে শিশুসহ ৩জন নিহত হয়েছে। কাঠালিয়া উপজেলার উত্তর তালগাছিয়া গ্রামের হেলেনা বেগম (৪০), ঝালকাঠি সদর উপজেলার শেখেরহাট ইউনিয়নের মির্জাপুর গ্রামের মিনারা বেগম (৩৫) ও পোনাবালিয়া ইউনিয়নের ইছালিয়া গ্রামের অটোচালক বাচ্চু হাওলাদারের মেয়ে ইয়ানা (১১) প্রাণ হারায়।
পটুয়াখালী:
রোববার সকালে প্রচণ্ড কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রপাতে পটুয়াখালীর বাউফলে মারা গেছে ২ জন। এসময় তেতুলিয়া নদীতে কয়েকটি ট্রলার ডুবে অন্তত ৫ জেলে নিখোঁজ রয়েছে। ঝড়ে অসংখ্য গাছপালা এবং অনেক বৈদ্যুতিক খুঁটি উপড়ে পড়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অনেক ঘরবাড়ি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। রাস্তায় চলাচলকারী যানবাহনের উপর গাছ উপড়ে পড়ে আহত হয়েছেন কয়েকজন।।এছাড়া কয়েকটি গবাদি পশুর মৃত্যু হয়েছে।
সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হঠাৎ আকাশ কালো মেঘে ছেঁয়ে রাতের অন্ধকার নেমে আসে। এরপর শুরু হয় প্রচণ্ড গতির কালবৈশাখী ঝড় ও বজ্রবৃষ্টি। প্রায় ৩০ মিনিটের ঝড়ের সময় বজ্রপাতে নাজিরপুর ইউনিয়নের তাঁতের গ্রামে রাতুল সিকদার নামে এক কিশোর প্রাণ হারায়। দাসপাড়া ইউনিয়নের চর আলগি গ্রামে বসতঘরে গাছ চাপায় সাফিয়া বেগম নামে এক বৃদ্ধা মারা যান।
ঝড়ে খুঁটি ভেঙ্গে বহু এলাকায় বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বাড়িঘর বিধ্বস্ত হওয়ায় খোলা আকাশের নীচে আশ্রয় নিয়েছে কয়েকশ পরিবার। ।

নেত্রকোণা:
নেত্রকোণায় বজ্রপাতে শহিদ মিয়া (৫২) নামের এক কৃষকের মৃত্যূ হয়েছে। রোববার (৭ এপ্রিল) সকালে জেলার খালিয়াজুরী উপজেলার মেন্দিপুর ইউনিয়নের রাজঘাট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। শহিদ মিয়া মেন্দিপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের কফিল উদ্দিনের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে নিজের কাঁচা মরিচের ক্ষেতে পরিচর্যা করছিলেন শহিদ মিয়া। এসময় বজ্রপাত হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান। পরে খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
ভোলা:
কালবৈশাখী ঝড়ে ভোলার লালমোহনের বিভিন্ন এলাকার অন্তত দুইশতাধিক ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। উপড়ে গেছে অনেক গাছপালা। রোববার দুপুরের দিকে লালমোহনে হঠাৎ করেই বইতে শুরু করে ঝড়। প্রায় ঘন্টা ধরে চলে ঝড়ের তাণ্ডব। এতে ঘরচাপা পড়ে ও বজ্রপাতে দুজন নিহত হন।
উপজেলার বদরপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঘর চাপা পড়ে হারিছ আহমেদ (৭০) নামে এক ভিক্ষুক মারা যান। অন্যদিকে উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের চরলেঙ্গুটিয়া গ্রামে বজ্রপাতে বাচ্চু নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। তিনি ওই এলাকার কয়ছর আহমেদের ছেলে। এছাড়া ঝড়ে দুইশত ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত পঞ্চাশটি ঘর পুরোপুরি বিধ্বস্ত হয়েছে।
ওদিকে খুলনায় রূপসা রেল ব্রিজের পিলারে ধাক্কা লেগে ডুবে গেছে সারবোঝাই কার্গো। এ সময় কার্গোর দুই কর্মী নিখোঁজ হন। রোববার সকালে মোংলা থেকে সারবোঝাই কার্গো এমভি থ্রী লাইট-১ যশোরের নওয়াপাড়ায় যাওয়ার পথে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান চলছে বলে জানা গেছে।








