৪৪ বছর পর স্বাধীনতা সংগ্রামের শহীদ হওয়া এক বীর প্রতীকের কবরের খোঁজ পেয়েছে তার পরিবার। সিলেটে ফেঞ্চুগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা রশিদ আলী বীরপ্রতীক একাত্তরে চুয়াডাঙ্গা এলাকায় এক সম্মুখ যুদ্ধে শহীদ হন। পরিবারের বরাত দিয়ে সিলেটটুডে টোয়েন্টিফোর জানায়, এতোদিন তার পরিবারের লোকজন জানতোই না কোথায় দাফন করা হয়েয়েছে রশিদকে।
চুয়াডাঙ্গা এলাকার জীবননগর উপজেলার উতলি ইউনিয়নের ধোফাখালী হাট এলাকায় রশিদ আলীর সমাধিস্থল খুঁজে পায় পরিবার। মুক্তিযুদ্ধের দলিল পত্র ঘেঁটে ও স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে কথা বলে এ কবর খুঁজে বের করেন শহীদ বীরপ্রতিকের ভাতিজা ছায়েদুল ইসলাম খালেদ।
শহীদ রশীদ আলীর একমাত্র ছোটো ভাই খুরশিদ আলী বলেন, দীর্ঘ দিন খোঁজাখোজি করেও আমরা বড় ভাইয়ের কবরের কোনো খোঁজ পাননি। কোথায় তাকে কবর দেওয়া হয়েছে কিংবা আদৌ কবরস্থ করা হয়েছে কী না তা জানতাম না। কেবল জানতাম চুয়াডাঙ্গা এলাকায় যুদ্ধ কেতে গিয়ে প্রাণ দিয়েছেন তিনি। অবেশেষ তার কবর খুঁজে পেলাম।
ভাতিজা ছায়েদুল ইসলাম খালেদ বলেন, ‘ছোট বেলায় বিজয় দিবসে শহীদ মিনারে যখন ফুল নিয়ে যেতাম তখন আমার বাবাকে খুব উদাস মনে বসে থাকতে দেখতাম। তখন আমার মনে হত তিনি হয়ত কারো জন্য অপেক্ষা করছেন। তখন বাবাকে জিজ্ঞেস করলে আমার চাচার কথার বলতেন। ‘৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে গিয়ে তিনি শহীদ হয়েছিলেন। বাবা উনার ভাইয়ের কবর দেখার জন্য খুব আক্ষেপ করতেন। সেই থেকেই আমার চেষ্টা শুরু চাচার কবর সনাক্তের জন্য।
তিনি জানান, ‘পাকিস্তান পরাজয়ের দলিল “হামিদুর রহমান কমিশন’ এবং চুয়াডাঙ্গার মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বইটি তার চাচার কবর সনাক্তকরণে খুব সহায়ক ছিলো।’
শহীদ রশিদ আলী বীর প্রতীক ১৯৩১ সালের ১০ মে সিলেট জেলার ফেঞ্চুগঞ্জের উপজেলার মাইজগাঁও জন্ম গ্রহণ করেন ৷ বাবা প্রয়াত মনসুর আলী ও মা প্রয়াত করিমুন্নিসা ৷ ৮ নম্বর সেক্টর সাবকমান্ডার সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল মুস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার উতলি ইউনিয়নে এক সম্মুখ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হাতে সুবেদার রশিদ আলীসহ পাঁচ জন শহীদ হন। অসামান্য বীরত্বের জন্য মুক্তিযুদ্ধের পর তাকে শহীদ খেতাব দেওয়া হয়।







