২৫ ফুট বরফের স্তূপের নিচে টানা ৬ দিন চাপা পড়ে থাকার পর সোমবার ভারতের সিয়াচেন হিমবাহ থেকে এক সেনা সদস্যকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। ওই সৈনিকের নাম ল্যান্স নায়েক হানামান থাপা।
উদ্ধারের পর তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় স্থানীয় আর্মি রিসার্চ অ্যান্ড রেফারাল হসপিটালে ভর্তি করা হয়।
গত ৩ ফেব্রুয়ারি সিয়াচেনের সেনা চৌকিতে নেমে আসে তুষারধস। সেখানে ছিলেন কর্নাটকের হানামানসহ আরও ৯ জন সৈনিক। এক কিলোমিটার চওড়া আর ৮শ’ মিটার উঁচু একটি বরফের দেয়ালের তলায় যেনো চাপা পড়ে যায় পুরো সেনা চৌকিটাই।
এরপর থেকে জোর উদ্ধার কাজ চালিয়ে গত পাঁচ দিনে পাঁচ সেনা সদস্যের মৃতদেহ পান উদ্ধারকর্মীরা। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলতে থাকে। ধরেই নেওয়া হয়েছিলো এতোদিন পর আর কাউকে জীবিত অবস্থায় ফিরে পাওয়া সম্ভব নয়।
কিন্তু সবাইকে অবাক হতে হলো সোমবার গভীর রাতে উদ্ধারকাজ চালানোর সময় প্রায় ২৫ ফুট বরফের নিচে হানামানকে পেয়ে। যেখানে হানামান থাপাকে পাওয়া গিয়েছিলো, অতোটা গভীরে তাপমাত্রা থাকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও কম। তাই প্রথমে মৃত ভাবলেও উদ্ধারকর্মীরা চমকে যান তার ক্ষীণ নাড়ীস্পন্দন টের পেয়ে।
হানামান থাপা বরফের মাঝে একটি ছোট বাতাস ভরা ফোঁকরে আটকে ছিলেন। তাই ছয়টা দিন ওই ভয়াবহ ঠাণ্ডায় টিকে থাকতে পেরেছেন। বর্তমানে তার অবস্থা বেশ স্থিতিশীল।
লেফটেন্যান্ট জেনারেল এস কে পাটইয়াল এনডিটিভিকে জানান, হানামান থাপাকে জীবিত উদ্ধার করা কোনো অলৌকিক ঘটনার চেয়ে কম না। কংক্রিটের মতো শক্ত এবং ভারী একটি বরফের দেয়াল তাদের ওপর পড়েছিলো। ‘উদ্ধারকাজটা খুব বেশি জটিল ছিলো,’ বলেন তিনি।
আরও ৪ জন সেনা সদস্য এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদেরকে এখন আর জীবিত ফিরে পাওয়া সম্ভব নয় বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন সংশ্লিষ্ট আরেক সেনা কর্মকর্তা।







