ঘটনার এক যুগ পেরিয়ে গেলেও এখনো একুশে আগস্টের সেই মর্মান্তিক গ্রেনেড হামলার বিচারশেষ হয়নি। ঢাকার এক নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে ওই ঘটনায় দুই মামলার বিচার চলছে। রাষ্ট্রপক্ষ বলছে, ন্যায়বিচারের স্বার্থে সব আইনী প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে গিয়েই বিচারে সময় লাগছে।
২০০৪ সালের একুশে আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলায় নিহত হয়েছিলেন আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমানসহ ২৪ জন। দেশের বড় হামলাগুলোর মধ্যে সেটি ছিলো একটি। ওই ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা হলেও তদন্তকে ভিন্ন খাতে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই সময় জজ মিয়া কাহিনীর মাধ্যমে মামলাকে ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করা হয়।
তবে ওয়ান ইলেভেনের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় মামলার নতুন করে তদন্ত হয়। চার্জশিটে অভিযুক্ত হন চারদলীয় জোট সরকারের উপমন্ত্রী আব্দুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন এবং জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ নেতা মুফতি হান্নানসহ ২২ জন। মামলার বিচার চলার সময় বর্তমান সরকার এর আগের মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ২০০৯ সালে আদালতের নির্দেশে মামলার অধিকতর তদন্ত হয়।
সিআইডির ওই তদন্তে নতুন করে অভিযুক্ত হন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সচিব হারিস চৌধুরী, ওই সময়ের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, জামায়াত নেতা আলী আহসান মুহাম্মদ মুজাহিদ, পুলিশের সাবেক তিন আইজি, গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই এবং এনএসআইয়ের সাবেক প্রধানসহ ৩০ জন।
রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান আইনজীবী সৈয়দ রেজাউল রহমান বলেন, একই সঙ্গে দু’টি মামলার কার্যক্রম চলছে। মামলার আসামী সংখ্যা বেশি। আবার আসামী পক্ষের আইনজীবীরা অপ্রসঙ্গিক জেরা করে মহামান্য হাইকোর্টে সময় ক্ষেপণ করেছেন। আবার মামলার অধিকতর তদন্ত হয়েছে। আপনারা জানেন অধিকতর তদন্তে বেশি সময় ব্যয় হয়। মামলার শেষ পর্যায়ে আমরা পৌঁছে গেছি।
অধিকতর তদন্তে কাউকেই রাজনৈতিকভাবে আসামি করা হয়নি বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ। আসামিদের মধ্যে লুৎফুজ্জামান বাবর, আব্দুস সালাম পিন্টু, মুফতি হান্নানসহ ২৫ জন কারাগারে আটক।
সাবেক তিন আইজিপিসহ ৮ জন জামিনে আছেন। মাওলানা তাজউদ্দিনসহ পলাতক ১৮ জন। মানবতাবিরোধী অপরাধে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় মামলা থেকে তার নাম বাদ দেয়া হয়েছে।








